Logo

কক্সবাজারে বন্যায় ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি তিন লক্ষাধিক মানুষ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
১০ জুলাই, ২০২৬, ১৫:৫৭
কক্সবাজারে বন্যায় ২ শিশুর মৃত্যু, পানিবন্দি তিন লক্ষাধিক মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার চকরিয়া, নবগঠিত মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে মারা যায় স্থানীয় সোলতান আহমদের দুই বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হয় আরিফুল ইসলামের তিন বছর বয়সী ছেলে পুষ্পের।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, নিহত দুই শিশুর পরিবারকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় জনপ্রতিনিধিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের জন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

মাতামুহুরী ও সাঙ্গু নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী, বমুবিলছড়ি, কাকারা, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা ও হারবাং ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

এ ছাড়া নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালী, বিএমচর ও সাহারবিল ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া, মগনামা, বারবাকিয়া, মেহেরনামা এবং পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। এতে সড়ক, কৃষিজমি ও চিংড়ির ঘের তলিয়ে গিয়ে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বাঁকখালী নদীর পানি ৫ দশমিক ৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬ দশমিক ৫৪ মিটারে পৌঁছেছে, যা উভয় ক্ষেত্রেই বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু করা হয়েছে।

তিনি জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে ০১৮৭২৬১৫১৩২ নম্বরে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, গত পাঁচ দিনে জেলায় প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD