Logo

ব্লক নয়, হিংসুক আত্মীয়দের দূরে রাখার নতুন কৌশল ‘সফট ব্লকিং’

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:২৬
ব্লক নয়, হিংসুক আত্মীয়দের দূরে রাখার নতুন কৌশল ‘সফট ব্লকিং’
ছবি এআই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে সরাসরি বাধা না দিয়েও নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে দূরে রাখা সম্ভব। তরুণদের মধ্যে এমন একটি নীরব কৌশল ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যার নাম ‘সফট ব্লকিং’ বা নীরব দূরত্ব তৈরি করা। সোমবার (১৭ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান সময়ে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তবে এর মাধ্যমে একজন কোথায় ঘুরতে গেছেন, কোন রেস্তোরাঁয় খেয়েছেন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে কী ঘটছে—এসব তথ্য সহজেই অন্যদের নজরে চলে আসে। বিশেষ করে আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের কেউ নিয়মিত এসব বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে থাকলে অনেকের কাছেই বিষয়টি অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে কাউকে সরাসরি বাধা দেওয়ার কথা মনে হতে পারে। কিন্তু এতে পারিবারিক কিংবা সামাজিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কাউকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে সরাসরি বাধা না দিয়েও তার কাছ থেকে নিজের ব্যক্তিগত জীবন আড়াল করা যায়। তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই নীরব কৌশলকেই বলা হচ্ছে ‘সফট ব্লকিং’।

বিজ্ঞাপন

সফট ব্লকিং কী

সফট ব্লকিং বলতে কাউকে সরাসরি বাধা না দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে নীরবে দূরত্ব তৈরি করাকে বোঝায়। এ ধরনের দূরত্ব তৈরির বেশ কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে।

কোনো ব্যক্তির পোস্ট বা গল্প নিজের সামনে দেখতে না চাইলে তাকে নীরব করে রাখা যায়। একইভাবে নিজের পোস্ট বা গল্প নির্দিষ্ট কারও কাছ থেকে গোপন করেও রাখা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া কাউকে অনুসরণ না করা, নিজের অনুসারীর তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা নির্দিষ্ট ব্যক্তির বার্তার উত্তর দেওয়ার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে দেওয়াও সফট ব্লকিংয়ের আওতায় পড়ে।

মানুষ কেন সফট ব্লকিংয়ের পথ বেছে নিচ্ছেন?

১. ব্যক্তিগত জীবনে গোপনীয়তা: নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে সকলকে অবহিত না করা।

বিজ্ঞাপন

২. ব্রেকআপ বা বিচ্ছেদ: সম্পর্ক শেষ হওয়ার পর প্রাক্তনের সঙ্গে সরাসরি ঝগড়া না করে দূরত্ব বজায় রাখা।

৩. দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলা: সামনাসামনি কঠিন কোনও আলোচনা বা বাকবিতণ্ডা এড়িয়ে চলা।

সফট ব্লকিংয়ের অভ্যাস কি ভালো?

বিজ্ঞাপন

সফট ব্লকিং ভালো না খারাপ—তা অনেকটাই নির্ভর করে এর পেছনে থাকা উদ্দেশ্যের ওপর। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর মানসিকভাবে নিজেকে সামলাতে কিংবা কোনো প্রাক্তন ব্যক্তিকে নিজের দৈনন্দিন জীবন থেকে দূরে রাখতে কেউ যদি সফট ব্লকিং করেন, তাহলে নিজের মানসিক স্বস্তির জন্য এটি যুক্তিসংগত হতে পারে।

তবে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য ব্যক্তিকে সফট ব্লক করে এই প্রত্যাশা করেন যে, তিনি বিষয়টি নিয়ে বারবার ভাববেন, তার পেছনে ছুটবেন, অপরাধবোধে ভুগবেন কিংবা ‘কী হয়েছে’ বা ‘কী অপরাধ করেছি’—এসব প্রশ্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, তাহলে সেটি এক ধরনের মানসিক প্রভাব বিস্তারের কৌশল বা কারসাজি হয়ে উঠতে পারে।

প্রয়োজন বুঝে সীমারেখা তৈরি করুন

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠলেও সেখানে সব তথ্য সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের গোপনীয়তা ও মানসিক স্বস্তির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন সীমারেখা তৈরি করা যেতে পারে।

একইসঙ্গে ‘রেস্ট্রিকটেড তালিকা’ ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্দিষ্ট কিছু লোককে ব্যক্তিগত পোস্ট দেখানো থেকে বিরত রাখবে।

ডেস্কটপ ব্যবহার করে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করবেন যেভাবে

বিজ্ঞাপন

ডেস্কটপে ফেসবুক ব্যবহার করে কোনো অ্যাকাউন্টকে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করা বেশ সহজ। কারণ ডেস্কটপ সংস্করণে একসঙ্গে অনেককে যুক্ত করা যায় ও তালিকাটি নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ। ডেস্কটপ ব্যবহার করে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন—

১. কম্পিউটার থেকে পছন্দের মতো ব্রাউজার চালু করুন।

২. এরপর ফেসবুকের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে লগ ইন করুন।

বিজ্ঞাপন

৩. বাম পাশে থাকা ‘ফ্রেন্ডস’ ট্যাবে ক্লিক করুন।

৪. এরপর ‘কাস্টম লিস্টস’ এ নির্বাচন করুন।

৫. এখন ‘রেস্ট্রিকটেড তালিকা’ অপশনে ক্লিক করুন।

বিজ্ঞাপন

৬. এবার ‘অ্যাড/রিমুভ’ বাটনে এ ক্লিক করুন। ফলে একটি পেজ চালু হবে।

৭. যেসব ফেসবুকস বন্ধুদের রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করতে চান তাদের নাম পেজের সার্চ বারে টাইপ করুন। সার্চ ফলাফলে তাদের নাম দেখা গেলে নামের পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে নির্বাচন করুন। তারপর ‘সেভ’ বাটনে ক্লিক করুন।

রেস্ট্রিকটেড তালিকা থেকে বাদ দিতে চাইলে নামের পাশে থাকা ‘X’ বাটনে ক্লিক করুন।

স্মার্টফোন ব্যবহার করে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করবেন যেভাবে-

অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস অ্যাপ ব্যবহারে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করা প্রক্রিয়াটি একটু ঝামেলার। কারণ প্রতিটি অ্যাকাউন্ট একে একে যুক্ত করতে হবে। স্মার্টফোন ব্যবহার করে রেস্ট্রিকটেড তালিকায় যুক্ত করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন—

১. স্মার্টফোনে ফেসবুক অ্যাপ চালু করুন।

২. যে অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিক তালিকায় যুক্ত করতে চান তার প্রোফাইলে প্রবেশ করুন।

৩. প্রোফাইলের ওপরে থাকা ‘ফ্রেন্ডস’ বোতামে ট্যাপ করুন।

৪. এরপর ‘এডিট ফ্রেন্ড লিস্ট’ নির্বাচন করুন।

৫. এখন ‘রেস্ট্রিকটেড’ অপশন নির্বাচন করুন।

আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সীমিত তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া প্রায় একই। তবে আইফোনের ক্ষেত্রে পঞ্চম ধাপের পর ‘সম্পন্ন’ অপশনে চাপ দিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে সফট ব্লকিং বা সীমিত তালিকা কার্যকর হতে পারে। তবে এই পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য যেন অন্যকে মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণ বা হয়রানি করা না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD