Logo

লোডশেডিংয়েও ভালো থাকবে মন, মেনে চলুন এই কৌশল

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:৫৪
লোডশেডিংয়েও ভালো থাকবে মন, মেনে চলুন এই কৌশল
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা তীব্র হয়ে উঠেছে। দৈনন্দিন কাজের ব্যস্ততার মধ্যে কিংবা দিনশেষে বিশ্রামের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে বিরক্তি ও মানসিক অস্বস্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে মনস্তত্ত্ব ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিবাচক মানসিকতা এবং কিছু কার্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে বিদ্যুৎহীন সময়টিকেও মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক সুস্থতার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ কিংবা বৈদ্যুতিক পর্দার ব্যবহার ছাড়া কাটানো সময়কে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অবসর সময়’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ও পর্দা থেকে দূরে থাকলে মস্তিষ্কের একটি বিশেষ কার্যক্রম সক্রিয় হয়, যা সৃজনশীলতা, স্মৃতিশক্তি এবং জটিল সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি বই পড়া কিংবা ধাঁধা সমাধানের মতো পর্দাবিহীন কাজে যুক্ত থাকলে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতাও বাড়ে।

গবেষণাভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, অস্বস্তি ও মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি সামাল দিতে গবেষকেরা কয়েকটি কার্যকর কৌশল অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে লোডশেডিংকে শুধু বিরক্তিকর সময় হিসেবে না দেখে নিজেদের জন্য ইতিবাচক কিছু করার সুযোগ হিসেবেও কাজে লাগানো যেতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের তথ্যানুযায়ী, শারীরিক কসরত মানসিক চাপ ও অস্থিরতা কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। লোডশেডিংয়ের সময় মুক্ত বাতাসে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হালকা ব্যায়াম, স্ট্রেচিং কিংবা যোগব্যায়াম করলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা গরম ও অন্ধকারজনিত মানসিক অবসাদ দ্রুত দূর করে।

একই সঙ্গে এই সময়টিকে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ হিসেবে কাজে লাগিয়ে অ্যানালগ মাধ্যমে ফিরে যাওয়া যায়। ইউনেস্কোর শিক্ষা প্রতিবেদন অনুসারে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মানুষের মনোযোগের পরিধি কমিয়ে দিচ্ছে। তাই বিদ্যুৎহীন সময়ে স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ সরিয়ে রেখে বই পড়া, ডায়েরি লেখা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লুডো, দাবা ও ক্যারামের মতো খেলায় অংশ নেওয়া চোখের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা পুনরুজ্জীবিত করে।

বিজ্ঞাপন

ভার্চুয়াল মাধ্যমের বাইরে এসে মুখোমুখি সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোরও চমৎকার উপলক্ষ হতে পারে লোডশেডিং। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সামাজিক গবেষণায় বলা হয়েছে, সামনাসামনি আড্ডা একাকীত্ব দূর করে এবং সম্পর্ককে সুদৃঢ় করে। বারান্দা বা ঘরে বসে পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে গল্পগুজব করলে মানসিক সহমর্মিতা ও পারিবারিক বন্ধন গভীর হয়।

মন প্রফুল্ল রাখতে সঙ্গীতের ভূমিকাও অপরিসীম। আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, প্রিয় সুর বা শান্ত গান মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে। বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা গান শোনার মাধ্যমে মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ নিঃসরণ বাড়ে, যা প্রতিকূল পরিবেশেও মানসিক চাপ দ্রুত কমিয়ে দেয়।

তবে লোডশেডিংয়ের সময় মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ চলে গেলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রিজের দরজা অপ্রয়োজনে বারবার খোলা থেকে বিরত থাকা উচিত। দরজা বন্ধ রাখা হলে ফ্রিজের ভেতরের খাবার প্রায় চার ঘণ্টা পর্যন্ত নিরাপদ থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ঘরের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে কখনোই ঘরের মধ্যে জেনারেটর বা কয়লা জাতীয় কোনো জ্বালানি ব্যবহার করা উচিত নয়। আগুন লাগার ঝুঁকি কমাতে মোমবাতির পরিবর্তে পুনরায় চার্জ দেওয়া যায় এমন বাতি কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ আলোর ব্যবস্থা ব্যবহার করাও জরুরি।

অর্থাৎ, লোডশেডিং বিরক্তিকর হলেও একটু সচেতনতা ও ইতিবাচক মানসিকতা থাকলে এই সময়টিকে পরিবারকে সময় দেওয়া, বই পড়া, হালকা ব্যায়াম করা কিংবা নিজের পছন্দের কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব। তবে সবকিছুর আগে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD