অতিরিক্ত মানসিক চাপ কি কেড়ে নিতে পারে মাথার চুল?

মানসিক চাপকে আমরা অনেক সময় খুব সহজভাবে নিয়ে থাকি। কিন্তু বিষয়টি আসলে এতটা সাধারণ নয়। বাইরে থেকে মানসিক চাপের প্রভাব সবসময় দেখা না গেলেও এটি ধীরে ধীরে শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকলে একপর্যায়ে তার প্রভাব শরীরেও প্রকাশ পেতে শুরু করে।
বিজ্ঞাপন
নিজের কিংবা আশপাশের মানুষের পরিবর্তনগুলো একটু খেয়াল করলেই বিষয়টি বোঝা সম্ভব। এর মধ্যে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, মানসিক চাপ কি চুল পড়ার কারণ হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, হ্যাঁ। মানসিক চাপের সঙ্গে চুল পড়ার সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে।
উচ্চ মাত্রার মানসিক চাপের কারণে তিন ধরনের চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এগুলো হলো—
টেলোজেন এফ্লুভিয়াম
বিজ্ঞাপন
টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের ক্ষেত্রে তীব্র মানসিক চাপ চুলের গোড়ার একটি বড় অংশকে সাময়িকভাবে বিশ্রাম পর্যায়ে ঠেলে দিতে পারে। এর ফলে কয়েক মাস পর হঠাৎ করে প্রচুর চুল ঝরে পড়তে শুরু করতে পারে। বিশেষ করে চুল আঁচড়ানোর সময় কিংবা চুল ধোয়ার সময় আক্রান্ত চুলগুলো বেশি পরিমাণে ঝরে যেতে দেখা যায়। অনেক সময় স্বাভাবিকের তুলনায় চুল পড়ার পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তখনই চোখে পড়ে।
ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া
ট্রাইকোটিলোম্যানিয়া হলো মাথার ত্বক, ভ্রু বা শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে চুল টেনে তোলার এক অদম্য ইচ্ছা। মানসিক চাপ, উত্তেজনা, একাকীত্ব, একঘেয়েমি বা হতাশার মতো নেতিবাচক বা অস্বস্তিকর অনুভূতিগুলো মোকাবেলা করার একটি উপায় হতে পারে চুল টানা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটা
অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটার জন্য বিভিন্ন কারণ দায়ী বলে মনে করা হয়, যার মধ্যে সম্ভবত তীব্র মানসিক চাপও অন্তর্ভুক্ত। অ্যালোপেসিয়া অ্যারেটা রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা চুলের গোড়াকে আক্রমণ করে। যার ফলে চুল ঝরে যায়।
মানসিক চাপ এবং চুল পড়া স্থায়ী না-ও হতে পারে। আর যদি আপনি আপনার মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন, তবে আপনার চুল আবার গজিয়ে উঠতে পারে।
বিজ্ঞাপন
তবে হঠাৎ করে চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে গেলে কিংবা মাথার নির্দিষ্ট জায়গায় জায়গায় চুল পড়তে শুরু করলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। একইভাবে চুল আঁচড়ানোর সময় বা চুল ধোয়ার সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল ঝরে পড়তে দেখলেও চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন। কারণ হঠাৎ চুল পড়া কখনো কখনো শরীরের ভেতরে থাকা কোনো শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণও হতে পারে, যার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দরকার হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসক চুল পড়ার কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উপযুক্ত চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।








