Logo

নতুন পে-স্কেলে কি বিয়ের বাজারে পিছিয়ে বেসরকারি চাকরিজীবীরা?

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:০৩
নতুন পে-স্কেলে কি বিয়ের বাজারে পিছিয়ে বেসরকারি চাকরিজীবীরা?
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে বিয়ের কথা উঠলেই অনেক পরিবারে যে প্রশ্নটি প্রথমেই সামনে আসে, সেটি হলো—‘ছেলে কী করে?’ উত্তরে যদি বলা হয় ‘সরকারি চাকরি’, তাহলে পাত্রের গ্রহণযোগ্যতা অনেক পরিবারের কাছেই যেন স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। আর যদি উত্তর আসে ‘বেসরকারি চাকরি’, তখনই শুরু হয় নানা ধরনের হিসাব-নিকাশ। কত বেতন, চাকরি কতটা স্থায়ী, ভবিষ্যতে আয় বাড়ার সুযোগ কেমন—এসব বিষয় নিয়ে তখন পরিবারের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক ব্যবধান আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর প্রভাব শুধু কর্মক্ষেত্র বা আর্থিক জীবনে সীমাবদ্ধ না থেকে বিয়ের বাজারেও পড়তে পারে। বিশেষ করে সরকারি চাকরির প্রতি যে বাড়তি সামাজিক আকর্ষণ আগে থেকেই রয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর কারণে তা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশের বিয়ের বাজারে সরকারি চাকরির প্রতি বাড়তি আকর্ষণ অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। নিয়মিত বেতন, চাকরির নিরাপত্তা, বিভিন্ন ধরনের ভাতা এবং অবসরকালীন সুবিধার কারণে অনেক পরিবারের কাছে সরকারি চাকরি এখনও পাত্রের অন্যতম বড় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে একজন পাত্রের শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি তিনি সরকারি না বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, সেটিও বিয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। কর্মজীবনের শুরুতেই সরকারি চাকরিজীবীরা তুলনামূলক স্থিতিশীল আয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা পাওয়ায় এর প্রভাব পড়তে পারে সামাজিক মূল্যায়নেও।

গণমাধ্যমকর্মী আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারি চাকরির প্রতি বিয়ের বাজারে বাড়তি আগ্রহ নতুন নয়। তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি ও বেসরকারি চাকরির আর্থিক ব্যবধান আরও স্পষ্ট হতে পারে। ফলে বিয়ের বাজারেও বেসরকারি চাকরিজীবীরা আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া দুই তরুণের কথা ধরা যাক। একজন সরকারি চাকরিতে ঢুকে নিয়মিত বেতন ও বিভিন্ন সুবিধা পাচ্ছেন, অন্যজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম বেতনে কর্মজীবন শুরু করছেন। সময়ের সঙ্গে দুজনের আয় বাড়লেও শুরুর এই ব্যবধান অনেক সময় সামাজিক তুলনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞাপন

তবে বেসরকারি খাতের সব চাকরির চিত্র এক নয়। ব্যাংক, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও বিশেষায়িত পেশায় অনেকের আয় সরকারি চাকরির চেয়েও বেশি। তবে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে বেসরকারি চাকরিতে দ্রুত বেতন বৃদ্ধির সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত।

বিয়ের বাজারে চাকরির পরিচয়ের প্রভাব বাংলাদেশে এখনও বেশ প্রবল। নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা আরও বাড়লে সরকারি চাকরির প্রতি সেই আকর্ষণও বাড়তে পারে। এতে বেসরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের সামাজিক ও আর্থিক তুলনা আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের মূল্যায়ন কেবল তার চাকরির ধরন কিংবা বেতনের অঙ্ক দিয়ে করা উচিত নয়। একজন মানুষের যোগ্যতা, দায়িত্ববোধ, ব্যক্তিত্ব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও তার মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হওয়া উচিত।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD