Logo

আপনার হার্ট কতটা সুস্থ, বুঝবেন যেসব লক্ষণে

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:৩৭
আপনার হার্ট কতটা সুস্থ, বুঝবেন যেসব লক্ষণে
ছবি: সংগৃহীত

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিজেরও কিছু সচেতনতা ও নিয়মিত প্রচেষ্টা থাকা প্রয়োজন। প্রতিদিনের জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আপনার হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির অবস্থা কেমন, তা শুধু শরীরের কিছু লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এসব লক্ষণ মূলত আপনার শারীরিক সক্ষমতা ও হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

হঠাৎ বা দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

১. অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট ছাড়াই সিঁড়ি ভাঙতে পারেন

দ্রুত হাঁটা কিংবা কয়েক তলা সিঁড়ি ওঠার সময় অতিরিক্ত বা অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট না হওয়া সাধারণত ইতিবাচক একটি লক্ষণ। এর অর্থ হতে পারে, আপনার হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও পেশি একসঙ্গে মোটামুটি ভালোভাবে কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

তবে কঠোর পরিশ্রম বা বেশি মাত্রার ব্যায়ামের পর শ্বাসকষ্ট হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আগে যে কাজগুলো সহজেই করতে পারতেন, সেগুলো করার সময় যদি বর্তমানে অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

শ্বাসকষ্টের পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে শারীরিক অক্ষমতা, রক্তস্বল্পতা, ফুসফুসের সমস্যা এবং হৃদযন্ত্রের অসুস্থতাও থাকতে পারে। তাই শরীরের স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় হঠাৎ কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা উপেক্ষা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করানো উচিত।

২. ব্যায়ামের পর হৃদস্পন্দন দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে

বিজ্ঞাপন

ব্যায়ামের সময় হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কারণ তখন শরীরের পেশিগুলোর বেশি পরিমাণে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তের প্রয়োজন হয়। ব্যায়াম শেষ করার পর শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে হৃদস্পন্দনও কমে আসার কথা।

ব্যায়াম শেষে হৃদস্পন্দন কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা, বয়স, ব্যায়ামের তীব্রতা এবং কোনো ওষুধ গ্রহণ করছেন কি না—এসব বিষয়ের ওপর এর গতি নির্ভর করতে পারে।

ইউরোপীয় হৃদযন্ত্রবিষয়ক চিকিৎসা সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ব্যায়ামের পর হৃদস্পন্দন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলে কখনো কখনো তা কম হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত সক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তবে সারাক্ষণ নিজের নাড়ির গতি মাপার প্রয়োজন নেই। বরং স্বাভাবিক ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের পর শরীর কত দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে, সেদিকে খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

৩. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ছাড়াই শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে পারেন

একটি সুস্থ হৃদপিণ্ড কর্মক্ষম পেশীতে অক্সিজেন এবং পুষ্টি সরবরাহ করতে সাহায্য করে। আপনি যদি অস্বাভাবিক ক্লান্তি ছাড়াই নিয়মিত হাঁটতে, সাইকেল চালাতে, সাঁতার কাটতে, ব্যায়াম করতে বা দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারেন, তবে এটি সাধারণত একটি ইতিবাচক লক্ষণ।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ক্রমাগত ক্লান্তি বা ব্যায়াম করার ক্ষমতা হঠাৎ কমে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত জীবনযাপন বা ঘুমের অভাবকে সরাসরি দায়ী করা উচিত নয়। হৃদপিণ্ডের সমস্যার সঙ্গে সবসময় স্পষ্ট বুকে ব্যথা থাকে না। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নারীদের, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা ব্যায়াম করার ক্ষমতা কমে যাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।

৪. নিয়মিত ব্যায়ামের রুটিন বজায় রাখতে পারেন

নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখার অন্যতম সেরা উপায়। ইউরোপীয় সোসাইটি অফ কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা যারা দ্রুত এবং বেশি দূরত্ব হাঁটেন, তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কম থাকে বলে মনে করা হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি-তীব্রতার কার্যকলাপ এবং হৃদপিণ্ডের জন্য ব্যায়াম, অথবা ৭৫ মিনিট তীব্র কার্যকলাপের লক্ষ্য রাখা উচিত, এর সাথে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন পেশী শক্তিশালী করার কার্যকলাপ করা উচিত।

আপনাকে ক্রীড়াবিদ হতে হবে না। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা এবং অন্যান্য কার্যকলাপ যা আপনার হৃদস্পন্দন বাড়ায়, সেগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কোনো দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ ছাড়াই সক্রিয় রুটিন বজায় রাখতে পারা কার্যকরী সুস্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।

৫. রক্তচাপ স্বাস্থ্যকর সীমার মধ্যে থাকা

বিজ্ঞাপন

শুধু নিজের শারীরিক অনুভূতি দিয়ে রক্তচাপ বেশি কি না, তা বোঝা সম্ভব নয়। উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। এ কারণে উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় হৃদরোগের একটি নীরব ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দৈনন্দিন জীবনে শরীর কেমন লাগছে, সেটি দিয়ে রক্তচাপের প্রকৃত অবস্থা সবসময় বোঝা যায় না। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র ও রক্তনালিকে সুরক্ষিত রাখতে রক্তচাপ স্বাস্থ্যকর মাত্রায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

যদি রক্তচাপের পরিমাপ বারবার বেশি আসে, তাহলে শুধু শারীরিকভাবে ভালো অনুভব করছেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও পরীক্ষা নেওয়া জরুরি।

বিজ্ঞাপন

মনে রাখতে হবে, এসব লক্ষণ দেখে হৃদযন্ত্র সম্পূর্ণ সুস্থ—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। হৃদযন্ত্রের প্রকৃত অবস্থা জানতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD