Logo

হেঁচকি কেন ওঠে, থামাবেন কীভাবে? জানুন কারণ ও করণীয়

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৫৯
হেঁচকি কেন ওঠে, থামাবেন কীভাবে? জানুন কারণ ও করণীয়
ছবি: সংগৃহীত

হেঁচকি ওঠার অভিজ্ঞতা কমবেশি প্রায় সবারই রয়েছে। খুব দ্রুত খাবার খাওয়া, কোনো কোমল পানীয় পান করা কিংবা হঠাৎ ভুল সময়ে হাসলেও হেঁচকি উঠতে পারে। সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই হেঁচকি আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকর কোনো বিষয় নয়। তবে হঠাৎ করে একের পর এক ‘হিক’ শব্দ হওয়ার পেছনে শরীরে ঠিক কী ঘটে, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মূলত ডায়াফ্রামের অনৈচ্ছিক সংকোচনের কারণেই হেঁচকি ওঠে। ডায়াফ্রাম হলো গম্বুজের মতো আকৃতির একটি পেশি, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডায়াফ্রাম হঠাৎ সংকুচিত হলে দ্রুত বাতাস ফুসফুসের ভেতরে প্রবেশ করে। প্রায় একই সময় স্বররজ্জুর মাঝখানের ফাঁক, যাকে গ্লটিস বলা হয়, দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। এই আকস্মিক প্রক্রিয়ার ফলেই পরিচিত হেঁচকির শব্দ তৈরি হয়।

হেঁচকি ওঠার সময় শরীরে কী ঘটে?

বায়োএসেস জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ডায়াফ্রাম নিয়ন্ত্রিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। কিন্তু হেঁচকি ওঠার সময় এই পেশিটি হঠাৎ এবং অনৈচ্ছিকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়ে। এর পরপরই গ্লটিস দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় এবং তখনই হেঁচকির শব্দ শোনা যায়।

বিজ্ঞাপন

সহজভাবে বললে, প্রথমে ডায়াফ্রাম হঠাৎ সংকুচিত হয়। এরপর দ্রুত বাতাস ফুসফুসে ঢোকে এবং সঙ্গে সঙ্গে গ্লটিস বন্ধ হয়ে যায়। এই পুরো প্রক্রিয়ার ফলেই হেঁচকির শব্দ তৈরি হয়।

হেঁচকির এই প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্নায়ু ও অংশ জড়িত থাকে। ফ্রেনিক স্নায়ু, যা ডায়াফ্রাম নিয়ন্ত্রণ করে, এবং ভেগাস স্নায়ু এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর মধ্যে অন্যতম।

হেঁচকি ওঠে কেন?

বিজ্ঞাপন

বেশিরভাগ সময় এর কোনো একটি সুস্পষ্ট কারণ থাকে না। যখন কোনো কিছু এই প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত স্নায়ুগুলোকে সাময়িকভাবে উত্তেজিত বা উদ্দীপিত করে তখন হেঁচকি উঠতে পারে। সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- খুব দ্রুত খাওয়া, বেশি পরিমাণে খাওয়া, কার্বনেটেড পানীয় পান করা, মদ পান করা, পেটের তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন, বাতাস গিলে ফেলা, হাসা বা উত্তেজিত হওয়া, মানসিক চাপ, তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন। বেশি পরিমাণে খাওয়ার পর পেট ফুলে গেলে তা ডায়াফ্রাম বা কাছাকাছি স্নায়ুগুলোকে উত্তেজিত করতে পারে, যার ফলে হেঁচকি ওঠার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

খাওয়ার পর হেঁচকি ওঠে কেন?

ব্রিটিশ জার্নাল অফ জেনারেল প্র্যাকটিস অনুসারে, দ্রুত খাওয়া বা খুব বেশি খাওয়ার ফলে পাকস্থলী প্রসারিত হতে পারে। কোমল পানীয় গ্যাস তৈরি করতে পারে এবং পাকস্থলীর প্রসারণ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। খাওয়া বা পান করার সময় বাতাস গিলে ফেলাও এর কারণ হতে পারে। এটি হেঁচকি প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত স্নায়ুগুলোকে উদ্দীপিত করতে পারে, যার ফলে ডায়াফ্রামের বারবার সংকোচন ঘটে। এই কারণেই ধীরে ধীরে খাওয়া, খুব বেশি পরিমাণে খাবার এড়িয়ে চলা এবং কোমল পানীয় সীমিত পরিমাণে পান করা কিছু ক্ষেত্রে হেঁচকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মানসিক চাপ কি হেঁচকির কারণ হতে পারে?

হ্যাঁ, মানসিক পরিবর্তন কখনও কখনও হেঁচকির কারণ হতে পারে। উত্তেজনা, স্নায়বিকতা, হঠাৎ হাসি বা মানসিক চাপ শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরণকে প্রভাবিত করতে পারে এবং হেঁচকি প্রতিবর্ত ক্রিয়াকে উদ্দীপিত করতে পারে। তবে মানসিক চাপের পরিস্থিতিতে হেঁচকি ওঠার অর্থ এই নয় যে এর অন্তর্নিহিত শারীরিক কারণ মানসিক চাপ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি কারণ একসঙ্গে ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

কিছু মানুষের কেন বেশি হেঁচকি ওঠে?

কিছু মানুষের জন্মগতভাবেই হেঁচকি ওঠার প্রবণতা বেশি থাকতে পারে। খাদ্যাভ্যাস, পান করার ধরণ এবং এই প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত স্নায়ুগুলোর ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতা- এগুলো সবই এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। ঘন ঘন হেঁচকি ওঠা মাঝে মাঝে কোনো অন্তর্নিহিত শারীরিক অসুস্থতা বা ওষুধের সাথেও সম্পর্কিত হতে পারে, বিশেষ করে যখন এটি কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই শুরু হয় বা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।

হেঁচকি থামাবেন কীভাবে?

বিজ্ঞাপন

সাধারণ হেঁচকি বেশিরভাগ সময় নিজে থেকেই কয়েক মিনিটের মধ্যে থেমে যায়। তবে হেঁচকি কিছুটা দীর্ঘ হলে শ্বাস কিছুক্ষণ ধরে রাখা, ঠান্ডা পানি অল্প অল্প করে পান করা কিংবা বরফঠান্ডা পানি দিয়ে কুলকুচি করার মতো কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে এসব পদ্ধতির কার্যকারিতা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। হেঁচকি বারবার হলে গ্যাসযুক্ত কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা এবং একসঙ্গে বেশি খাবার না খাওয়াও উপকারী হতে পারে।

সাধারণত হেঁচকি কতক্ষণ স্থায়ী হয়?

বেশিরভাগ সাধারণ হেঁচকি অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজে থেকে থেমে যায়। তবে মাঝে মাঝে হেঁচকি আরও অনেকক্ষণ ধরে চলতে পারে। ডাক্তাররা সাধারণত ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা হেঁচকিকে দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেন। যেগুলো এক মাসের বেশি সময় ধরে চলে, সেগুলোকে অনিয়ন্ত্রিত হেঁচকি বলা হয়। দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি খুব একটা দেখা যায় না এবং এটি খাওয়া, পান করা, ঘুমানো এবং কথা বলার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

কখন দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি সতর্ক সংকেত হতে পারে?

৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হেঁচকি চলতে থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। বিশেষ করে হেঁচকি ওঠার কোনো স্পষ্ট কারণ জানা না থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।

দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি কখনও কখনও মস্তিষ্ক, স্নায়ু, বুক কিংবা পরিপাকতন্ত্রের কোনো শারীরিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এ ছাড়া কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহার এবং শরীরের বিপাকীয় সমস্যার কারণেও দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি দেখা দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকির পাশাপাশি যদি বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীরের দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, পেটে তীব্র ব্যথা কিংবা স্বাস্থ্যের অন্য কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD