Logo

পরকীয়ার শুরু হয় কখন, বুঝবেন যেসব লক্ষণে

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১০
পরকীয়ার শুরু হয় কখন, বুঝবেন যেসব লক্ষণে
ছবি: সংগৃহীত

পরকীয়া দাম্পত্য জীবনের অন্যতম আলোচিত ও জটিল সমস্যা। অনেক সময় ভালো থাকা একটি সম্পর্কেও তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি দূরত্ব ও সংকট তৈরি করতে পারে। তবে কোনো সম্পর্কে পরকীয়া তৈরি হলে কেবল একজনকে দায়ী করেই পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করা সবসময় সম্ভব নয়।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব, আবেগগত অপূর্ণতা, ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টি, সুযোগ এবং নিজের নেওয়া সিদ্ধান্ত—সবকিছুই পরকীয়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নিজের আচরণ, আবেগ এবং সম্পর্কের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

সম্পর্কের বাইরে কারও প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা আর সেই আকর্ষণকে পরকীয়ার সম্পর্কে নিয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। আকর্ষণ তৈরি হওয়ার পর কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, সেখানেই সচেতন হওয়ার সুযোগ থাকে।

ছোট গোপনীয়তা থেকেই বাড়তে পারে ঘনিষ্ঠতা

বিজ্ঞাপন

পরকীয়া অনেক সময় হঠাৎ করে তৈরি হয় না। পরিচিত কারও সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা কিংবা একসঙ্গে বেশি সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে পারে। শুরুতে বিষয়টি সাধারণ বন্ধুত্ব মনে হলেও পরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে নিজের আবেগ, সমস্যা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।

সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে যখন এই যোগাযোগ সঙ্গীর কাছ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে লুকানো শুরু হয়। ফোনের কথোপকথন বা বার্তা মুছে ফেলা, কলের তথ্য গোপন করা কিংবা ‘জানলে অযথা সমস্যা হবে’ ভেবে সত্য না বলা—এসব আচরণ নিজের সম্পর্কের সীমারেখা নিয়ে সতর্ক হওয়ার কারণ হতে পারে।

দাম্পত্যের সমস্যা সমাধানে তৃতীয় ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া নয়

বিজ্ঞাপন

দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য, একাকিত্ব কিংবা মানসিক দূরত্ব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সঙ্গী যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন না, কথা শুনছেন না কিংবা অনুভূতি বুঝতে পারছেন না—এমন অভিজ্ঞতা থেকেও বাইরের কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হতে পারে।

তবে দাম্পত্যের সমস্যা থেকে বের হওয়ার বিকল্প হিসেবে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এমন অবস্থায় সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, নিজের প্রয়োজন ও কষ্ট স্পষ্টভাবে জানানো এবং প্রয়োজন হলে দাম্পত্য কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া তুলনামূলকভাবে কার্যকর পথ হতে পারে।

‘শুধু বন্ধুত্ব’ কখন সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে?

বিজ্ঞাপন

কর্মক্ষেত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা পুরোনো বন্ধুত্বের সূত্রে অন্য কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া স্বাভাবিক। তবে নিজের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখা জরুরি।

এই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি কি সঙ্গীর কাছ থেকে লুকানো হচ্ছে? তার বার্তার অপেক্ষায় কি অস্বাভাবিক আগ্রহ তৈরি হচ্ছে? সঙ্গীর তুলনায় ওই ব্যক্তির সঙ্গে কি নিজের সমস্যা বেশি ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে? তার সঙ্গে দেখা করার জন্য কি নিয়মিত অজুহাত খোঁজা হচ্ছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর যদি বারবার ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে সম্পর্কটির সীমারেখা নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। কারণ বন্ধুত্ব কখন আবেগগত নির্ভরতায় পরিণত হচ্ছে, সেটি বুঝতে পারা গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

ব্যক্তিগত যোগাযোগেও প্রয়োজন সতর্কতা

ডিজিটাল যোগাযোগ সহজ হয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হচ্ছে। বার্তা আদান-প্রদান, ভিডিও কল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথাবার্তার মাধ্যমেও ধীরে ধীরে আবেগগত সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে গভীর রাতে ব্যক্তিগত আলাপ, ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা কিংবা এমন ছবি-ভিডিও আদান-প্রদান, যা নিজের সঙ্গীর সামনে স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব নয়—এসব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। প্রয়োজন হলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ সীমিত করা বা এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা সম্পর্কের সীমারেখা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এ ক্ষেত্রে একটি সহজ নীতি হতে পারে—যে কাজটি সঙ্গীর সামনে করতে অস্বস্তি হবে, সেটি গোপনে করার আগে নিজেকে একবার প্রশ্ন করা।

আকর্ষণ তৈরি হলেই সম্পর্কে জড়াতে হবে না

প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে থাকার সময় অন্য কারও প্রতি সাময়িক আকর্ষণ তৈরি হওয়া সম্ভব। কিন্তু কাউকে ভালো লাগা বা আকর্ষণ অনুভব করা এবং সেই অনুভূতিকে পরকীয়ার সম্পর্কে পরিণত করা এক বিষয় নয়।

বিজ্ঞাপন

কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হলে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরত্ব বজায় রাখা, একান্তে দেখা করা এড়িয়ে চলা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া এবং নিজের দাম্পত্য সম্পর্কের দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ অনুভূতিকে অস্বীকার করার চেয়ে নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।

দাম্পত্য সম্পর্কেও দিতে হবে সময়

অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলেও দুজনের কেউই সেটি নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করেন না। অথচ একসঙ্গে খাওয়া, নিজেদের মধ্যে কথা বলা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো দাম্পত্যের ঘনিষ্ঠতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তবে সম্পর্কের মধ্যে নির্যাতন, জোরজবরদস্তি, ভয় কিংবা নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে শুধু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা না করে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

আগে থেকেই নির্ধারণ করুন নিজের সীমারেখা

পরকীয়া এড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু ‘আমি কখনো এতে জড়াব না’—এমন সিদ্ধান্ত সবসময় যথেষ্ট নাও হতে পারে। বরং কার সঙ্গে কতটা ব্যক্তিগত হওয়া যাবে, কোন ধরনের যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে হবে এবং দাম্পত্যে সমস্যা দেখা দিলে কার সঙ্গে কীভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে—এসব বিষয়ে নিজের সীমারেখা আগে থেকেই স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

পরকীয়াকে শুধু একজনের ‘ভুল’ হিসেবে দেখলে দাম্পত্য সম্পর্কের জটিল বাস্তবতা অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। তবে নিজের সিদ্ধান্ত, গোপনীয়তা ও আচরণের দায়িত্ব প্রত্যেক ব্যক্তিরই রয়েছে।

সম্পর্কের বাইরে কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হলেই তাতে জড়িয়ে পড়তে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সচেতনভাবে দূরত্ব বজায় রাখা, সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার মাধ্যমে অনেক পরিস্থিতিই সামাল দেওয়া সম্ভব।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD