নতুন বন্ধু পাতানোর দিবস আজ, জেনে নিন বন্ধুত্ব গড়ার কৌশল

বন্ধুত্ব মানবজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সম্পর্ক। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক বন্ধু দূরে সরে যান, আবার নতুন মানুষের সঙ্গে তৈরি হয় পরিচয় ও সখ্য। শৈশবে পাড়ার গলি, স্কুলের মাঠ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব সময়ের ব্যবধানে দূরত্ব তৈরি হলেও অনেক ক্ষেত্রে টিকে থাকে বছরের পর বছর। অন্যদিকে কর্মক্ষেত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা নতুন কোনো পরিবেশেও তৈরি হতে পারে সুন্দর বন্ধুত্ব।
বিজ্ঞাপন
নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার বার্তা নিয়ে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে নতুন বন্ধু দিবস। জীবনে নতুন বন্ধু নিয়ে আসেন নতুন অভিজ্ঞতা, চিন্তাভাবনা ও সম্ভাবনা। আর পুরোনো বন্ধুরা হয়ে থাকেন সুখ-দুঃখের পরিচিত সঙ্গী।
তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের চাপ, ব্যস্ততা ও ব্যক্তিগত দায়িত্বের কারণে নতুন বন্ধু তৈরির সুযোগ কমে যেতে পারে। তারপরও কিছু সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং সেই পরিচয়কে বন্ধুত্বে রূপ দেওয়া সহজ হতে পারে।
কথা বলার উদ্যোগ নিন
বিজ্ঞাপন
নতুন বন্ধুত্ব গড়ার প্রথম ধাপ হলো কথা বলা। পরিচিত পরিবেশে নতুন কাউকে দেখলে হাসিমুখে শুভেচ্ছা জানান। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে দেখা হওয়া মানুষের সঙ্গে সাধারণ বিষয় নিয়ে আলাপ শুরু করতে পারেন। কোনো আয়োজন কেমন লাগছে, একটি বই কোথা থেকে কেনা হয়েছে কিংবা কোনো বিষয়ে তার মতামত কী—এমন সহজ প্রশ্ন থেকেই কথোপকথনের সূচনা হতে পারে। প্রথম আলাপেই গভীর আলোচনা করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
নিজের আগ্রহের জায়গায় সময় দিন
একই ধরনের পছন্দ ও আগ্রহের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা তুলনামূলক সহজ। বই পড়তে ভালো লাগলে বই পড়ার ক্লাবে যোগ দিতে পারেন। খেলাধুলায় আগ্রহ থাকলে বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। এ ছাড়া ছবি আঁকা, রান্না, বাগান করা কিংবা অন্য কোনো শখের সঙ্গে যুক্ত হয়েও নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন কর্মশালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজেও অংশ নিতে পারেন। একই কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণের ফলে পরিচিতি বাড়ে, আর সেই পরিচয় থেকেই ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব তৈরি হতে পারে।
অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন
বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে শুধু নিজের কথা বলাই যথেষ্ট নয়, অন্যের কথাও মন দিয়ে শুনতে হয়। কেউ নিজের অভিজ্ঞতা কিংবা অনুভূতির কথা বললে মাঝপথে বাধা না দিয়ে শোনার চেষ্টা করুন। তার বক্তব্যের প্রতি আগ্রহ দেখান এবং প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করুন। এতে তিনি বুঝতে পারবেন, আপনি তার কথা ও অনুভূতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন করার আগে অন্য ব্যক্তির স্বাচ্ছন্দ্য ও সীমারেখার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
বিজ্ঞাপন
নিজের স্বাভাবিক ব্যক্তিত্ব বজায় রাখুন
নতুন কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য নিজেকে অন্য মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়োজন নেই। নিজের পছন্দ, মতামত ও ব্যক্তিত্বের প্রতি স্বাভাবিক থাকুন। সবাই আপনাকে পছন্দ করবেন, এমন প্রত্যাশা না রাখাই ভালো। কারও সঙ্গে দ্রুত সখ্য তৈরি হতে পারে, আবার কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠতে সময় লাগতে পারে। তাই অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দেবেন না।
নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখুন
বিজ্ঞাপন
একবার পরিচিত হওয়ার পর যোগাযোগ ধরে রাখা বন্ধুত্ব গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঝেমধ্যে খোঁজ নেওয়া, কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলা কিংবা একসঙ্গে চা খাওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন। তবে বারবার যোগাযোগ করে কাউকে অস্বস্তিতে ফেলবেন না। দুজনের আগ্রহ, সময় ও স্বাচ্ছন্দ্যের সমন্বয় রেখে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই ভালো।
ভুল বোঝাবুঝিতে ধৈর্য ধরুন
নতুন বন্ধুত্বের শুরুতে একে অপরকে বুঝতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কোনো কথায় ভুল বোঝাবুঝি হলে দ্রুত নেতিবাচক সিদ্ধান্ত না নিয়ে শান্তভাবে আলোচনা করুন। এতে সমস্যার সমাধান করা সহজ হতে পারে। তবে কারও আচরণে বারবার অসম্মান, মানসিক চাপ সৃষ্টি কিংবা ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘনের প্রবণতা দেখা গেলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করুন।
বিজ্ঞাপন
অনলাইন বন্ধুত্বে সতর্ক থাকুন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে এখন সহজেই নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়। তবে অনলাইনে পরিচয় হলেই কাউকে দ্রুত বিশ্বাস করা উচিত নয়। ব্যক্তিগত তথ্য, বাসার ঠিকানা, আর্থিক বিবরণ কিংবা সংবেদনশীল ছবি শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। অনলাইনে পরিচিত কারও সঙ্গে সামনাসামনি দেখা করার সিদ্ধান্ত নিলে জনসমাগমপূর্ণ নিরাপদ জায়গা বেছে নিন এবং বিশ্বস্ত কাউকে বিষয়টি জানিয়ে রাখুন।
নতুন বন্ধুর পাশাপাশি পুরোনো বন্ধুকেও সময় দিন
বিজ্ঞাপন
নতুন বন্ধু তৈরি করার পাশাপাশি পুরোনো বন্ধুত্বের যত্ন নেওয়াও জরুরি। ব্যস্ততার কারণে দীর্ঘদিন কথা না হলেও মাঝেমধ্যে খোঁজ নিন। পুরোনো স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া, একসঙ্গে সময় কাটানো কিংবা ছোট্ট একটি বার্তা পাঠানোর মাধ্যমেও সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখা যায়।
নতুন বন্ধুত্বের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন আন্তরিকতা, ধৈর্য ও যোগাযোগের আগ্রহ। প্রতিদিন অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচয় হলেও সবাই বন্ধু হয়ে উঠবেন না। তবে নিজের আগ্রহের জায়গায় সক্রিয় থাকা, অন্যকে সম্মান করা এবং ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে জীবনে সুন্দর বন্ধুত্বের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব।
যেভাবে শুরু হয়েছিল নতুন বন্ধু দিবস
বিজ্ঞাপন
হলিডে ক্যালেন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বন্ধু দিবস পালনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ শুরু হয়। ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। পরে ২০১২ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দিবসটি আরও জনপ্রিয়তা লাভ করে।
দিবসটি উপলক্ষে নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হওয়া, বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেওয়া কিংবা নতুন বন্ধুর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো যেতে পারে। একই সঙ্গে পুরোনো বন্ধুদের খোঁজ নেওয়া, তাদের সঙ্গে স্মৃতি ভাগ করে নেওয়া এবং সম্পর্কের যত্ন নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
কারণ, নতুন বন্ধুত্ব জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। আর পুরোনো বন্ধুত্ব মনে করিয়ে দেয় একসঙ্গে কাটানো মূল্যবান সময়ের কথা।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: হলিডে ক্যালেন্ডার, উইকিহাউ, জেন হ্যাবিটস








