জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার হবে: র্যাব ডিজি

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে অবৈধ অস্ত্রধারী ও বেআইনিভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান। তিনি বলেন, আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খুব দ্রুত এই এলাকায় সক্রিয় সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব-৭-এর প্রধান কার্যালয়ে হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন র্যাব ডিজি। এর আগে দুপুরে মোতালেব হোসেনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সুবেদার মোতালেব শহীদ হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে র্যাব বদ্ধপরিকর।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে।
নিহত কর্মকর্তার পরিবারের বিষয়ে র্যাবের অবস্থান তুলে ধরে একেএম শহিদুর রহমান বলেন, মোতালেব হোসেনের পরিবারের ক্ষতি কখনোই পূরণ করা সম্ভব নয়। তার স্ত্রী স্বামীকে এবং সন্তানরা পিতাকে হারিয়েছে। তবে র্যাব এই পরিবারটির দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র্যাবের আরও তিন সদস্য এবং ‘মনা’ নামে এক সোর্স গুরুতর আহত হন। নিহত মোতালেব বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র্যাবে কর্মরত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ, র্যাব ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওইদিন বিকেলে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল, কেন্দ্র করে সেখানে বিপুল লোকসমাগম ঘটে। এ সময় একটি পক্ষের উপস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পেয়ে র্যাব-৭-এর একটি দল অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে সেখানে যায়। অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং একপর্যায়ে চারজন সদস্য ও এক সোর্সকে আটক করে মারধর করে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসক মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং দায়ীদের গ্রেপ্তারে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








