বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচনে থাকছে না গণভোট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনে গণভোট নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন জানিয়েছে, এই দুই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে এই তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি জানান, বগুড়া-৬ আসনের ক্ষেত্রে পূর্বে গণভোট নেওয়া হয়েছিল। তবে শেরপুর-৩ আসনে ভোটসংখ্যা নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না—এ কারণে সেখানে গণভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিকল্পনা গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ডেপ্লয়মেন্ট পরিকল্পনার আওতায় পরিচালিত হবে। পাশাপাশি এবার কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপের ব্যবহার বাড়ানো হবে। আগে একটি কেন্দ্রে একটি বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকলেও এবার প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ক্যামেরা ব্যবহার করা হতে পারে।
নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে ইসি সচিব জানান, নির্বাচনে আট দিনের জন্য আনসার মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বিজিবি, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া যায়নি।
মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপডেটেও সচিব জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যেসব মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আপিলের সময়সীমা শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আপিল পাওয়া যায়নি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে কোন আসনে কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রবাসী ভোটারদের জন্যও ভোট প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ওসিবি ও আইসিবি—দুটি ধরনের পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোট গ্রহণ হবে। ওসিবি ব্যালট আগামীকাল থেকে প্রেরণ শুরু হবে। দেশের ভেতরে পোস্টাল ভোট গ্রহণ শুরু হবে ২৩ বা ২৪ মার্চের দিকে।
ইসি সচিব আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে। আগের নির্বাচনের মতো এবারও কমান্ড, কন্ট্রোল ও কোঅর্ডিনেশনের ওপর জোর দেওয়া হবে। কেন্দ্রভিত্তিক ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে, যাতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে তা পর্যালোচনা করা যায়।
বিজ্ঞাপন
চূড়ান্ত ফলাফল দ্রুত প্রকাশের বিষয়েও ইসি আশাবাদী। দুই আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক কম—একটিতে ১৫০টি ও অন্যটিতে ২৮টি কেন্দ্র—ফলে দ্রুত ফলাফল ঘোষণা সম্ভব হবে। পোস্টাল ভোট গণনা শেষ হলেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনকে ঘিরে কোনো চাপ বা উদ্বেগের আশঙ্কা আছে কি না—এ বিষয়ে সচিব বলেন, এখন পর্যন্ত কমিশনের কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য আসেনি। সকল প্রার্থী ও ভোটারদের দায়িত্বশীল আচরণ করার প্রত্যাশা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই হয়েছে ৫ মার্চ, আপিলের সময়সীমা ছিল ৬–১০ মার্চ, এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ মার্চ। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে আগামী ১৫ মার্চ। এইভাবে নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে।








