Logo

আগামীকাল শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মার্চ, ২০২৬, ১৪:০২
আগামীকাল শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ আগামীকাল বৃহস্পতিবার তার প্রথম অধিবেশনের জন্য বসছে। সকাল ১১টায় নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হবে। বছরের এই প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। সংসদ সচিবালয় ইতিমধ্যেই অধিবেশন সম্পর্কিত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

বিজ্ঞাপন

অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। সরকারি দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে জামায়াত এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত অবস্থান প্রকাশ করেনি। তারা মূলত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিরোধী দল জুলাই জাতীয় সনদের বিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সংসদে ভাষণ প্রদানের থেকে বিরত রাখার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু সরকারি দল আশা করছে, বিরোধী দল সংসদ কার্যকর রাখতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

বিজ্ঞাপন

জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছেন। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়ায় সরকারি দলের সমালোচনা করেছে তারা। সংস্কার পরিষদ কার্যকর না হলে ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণেও অনীহা প্রকাশ করেছে বিরোধী দল।

এছাড়া জামায়াতে ইসলামী প্রধানমন্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সংসদে ভাষণ প্রদানের থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সভা ও সমাবেশের মাধ্যমে এ ইস্যুতে জোরালো অবস্থান প্রকাশ করবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষণা দিয়েছে, যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর করা না হয়, ১২ মার্চ মিছিলের মাধ্যমে তারা সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান করবে।

সাধারণত অধিবেশনের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন এবং তার ওপর সরকার ও বিরোধী দল আলোচনা করে। ৫ মার্চ মন্ত্রিপরিষদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুমোদিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “সংসদে এবং রাজপথে জনগণের অধিকার আদায়ে লড়াই অব্যাহত থাকবে। জনগণ যদি সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছে, তা অগ্রাহ্য করা যাবে না। সরকার যদি জনগণের অনুভূতি অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করে, আমরা সহযোগিতা করব।”

বিজ্ঞাপন

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “সরকারি ও বিরোধী দলকে এক মঞ্চে নিয়ে সংসদ কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছেন, তা সব পক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রূপায়ণ করছে। এ জন্য বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের উপস্থিতি জরুরি। তিনি বলেন, “অতীতের সংসদগুলোতে বিরোধী দল কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারিনি। তবে এবারের নির্বাচনে সেই পরিস্থিতি বদলেছে।”

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD