তরুণ প্রজন্মই হতে পারে তথ্যব্যবস্থার সমাধানদাতা: তথ্যমন্ত্রী

দ্রুত পরিবর্তিত ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থার জটিল সংকট মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাই হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমাধানদাতা বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সৃজনশীল চিন্তা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরাই একটি গ্রহণযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২ মে) রাজধানীর নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রকে একটি গাড়ির সঙ্গে তুলনা করেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ এবং নির্বাচিত বা অনির্বাচিত সরকার সেই গাড়ির চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। চালক যদি ভুল করে বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তবে যাত্রীরা অসন্তোষ প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে মালিকরা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং নতুন চালক নিয়োগ দেয়। তবে নতুন চালকও অনেক সময় আগের পরিস্থিতির প্রভাব ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অনেক কাঠামোগত সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও দুর্বলতা উত্তরাধিকার সূত্রে পায়, যা রাষ্ট্র পরিচালনাকে জটিল করে তোলে। ফলে তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্তই সমালোচনার মুখে পড়ে—কখনো নেওয়ার কারণে, আবার কখনো না নেওয়ার কারণেও।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই দায়িত্ব পালনের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা নয়, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের মনস্তত্ত্ব বোঝার সক্ষমতাও থাকতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তুলনীয়।
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্র পরিচালনাকে তিনি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি শুধুমাত্র আবেগ বা বক্তব্যের বিষয় নয়। অতীত অভিজ্ঞতা, বর্তমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—এই তিনটি দিক বিবেচনায় নিয়েই একটি সরকারকে কাজ করতে হয়। ক্ষমতার ভেতরে নানা ধরনের জটিলতা বা “চ্যালেঞ্জিং উপাদান” থাকে, যা সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ না করলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ডিজিটাল যুগের পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম এমন এক তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর পরিবেশে বড় হচ্ছে, যা পূর্ববর্তী প্রজন্মের অভিজ্ঞতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বিজ্ঞাপন
এই বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে সৃজনশীলতা বিকাশের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, তরুণদের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাশক্তি কাজে লাগিয়ে তথ্যব্যবস্থার জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রবাহ সভ্যতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে শুধু তথ্যের অবাধ প্রবাহই যথেষ্ট নয়, বরং তা সঠিক, নির্ভুল ও পরিচ্ছন্ন হওয়াও জরুরি। “ফ্রি ইনফরমেশন” এর পাশাপাশি “ক্লিন ইনফরমেশন” নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
অনুষ্ঠানে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী, নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।








