কৃষকের মর্যাদা বাড়লেই শক্তিশালী হবে বাংলাদেশ: কৃষিমন্ত্রী

কৃষকই দেশের প্রকৃত শক্তির ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তিনি বলেন, কৃষির অগ্রগতি এবং কৃষকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেলেই বাংলাদেশ আরও স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২ মে) দুপুরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও কৃষক পরিবারের সন্তান এবং কৃষিকাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। একসময় সমাজের একটি অংশ কৃষকের পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করলেও বর্তমানে সেই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটেছে। এখন মানুষ গর্বের সঙ্গে নিজেদের কৃষকের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেয়, যা দেশের অগ্রগতিরই প্রতিফলন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, যুক্তিনির্ভর বক্তব্য ও বিশ্লেষণই একজন মানুষকে প্রকৃত বিতার্কিক হিসেবে গড়ে তোলে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে যুক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই বিতর্কচর্চার প্রসার অপরিহার্য।
অতীত রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, একসময় রাজতন্ত্রে সাধারণ মানুষের মতামতের কোনো মূল্য ছিল না। সময়ের পরিবর্তনে বিভিন্ন ধরনের শাসনব্যবস্থা এলেও বর্তমানে বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক বিশ্বে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো কখনো অর্থনৈতিক, কখনো কৌশলগতভাবে অন্য দেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে।
বিজ্ঞাপন
এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে জ্ঞান, যুক্তি ও কৌশলকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, পূর্ববর্তী প্রজন্ম একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে গেছে, আর বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব হলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও উন্নত পৃথিবী গড়ে তোলা।
কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক সময় কৃষকরা তাদের পণ্যের সঠিক দাম পান না, ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হন। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কোন অঞ্চলে কোন পণ্যের চাহিদা কত—তা বিশ্লেষণ করে উৎপাদন পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে, যা বাজারে ভারসাম্য তৈরি করবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তায় আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাশার ভূঁঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিকসহ প্রশাসন ও শিক্ষাঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ‘সত্যকে চিনে নাও যুক্তির নিরিখে’ প্রতিপাদ্যে কলেজ বিতর্ক পরিষদ (ভিসিডিএস) এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।








