নির্বাচনী মাঠে সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় ইসির বিশেষ পরিপত্র জারি

নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিকের স্বাক্ষরে এই পরিপত্র জারি করা হয়। এতে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার এবং আইনগত সুরক্ষার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক নীতিমালা অনুযায়ী সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান অনুসারে, রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদনপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রেখে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, নীতিমালা–২০২৫ অনুযায়ী কমিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিকরা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। পরিচয়পত্র ও যানবাহনের স্টিকারের জন্য নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। অনুমোদনের পর কিউআর কোডযুক্ত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ডাউনলোড ও প্রিন্ট করার সুযোগ থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কিউআর কোডের মাধ্যমে এসব পরিচয়পত্র ও স্টিকারের বৈধতা যাচাই করতে পারবেন বলেও পরিপত্রে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া, নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত কমিশন অনুমোদিত কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যমকর্মীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা, শারীরিক ক্ষতি করা বা তাদের ব্যবহৃত সরঞ্জামের ক্ষতিসাধনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত প্রিজাইডিং অফিসাররা কেন্দ্রের ভেতরের স্থান ও পরিবেশ বিবেচনায় রেখে সংবাদকর্মীদের কাজের সুবিধা নিশ্চিত করবেন, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়।
নির্বাচন কমিশনের এই পরিপত্রকে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।








