Logo

বিশ্ব রাজনীতি থেকে কীভাবে বাংলাদেশে এলো প্রচারণার বাস?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২০:৪০
বিশ্ব রাজনীতি থেকে কীভাবে বাংলাদেশে এলো প্রচারণার বাস?
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর ভার্চুয়াল প্রচারণার দাপট থাকলেও রাজপথের রাজনীতিতে এখনো শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে এক ভিন্ন কৌশল—প্রচারণার বাস। দলীয় রঙ, স্লোগান ও প্রার্থীর ছবি সম্বলিত বিশাল বাস যখন সাইরেন ও মাইকের শব্দে শহর-গ্রাম কাঁপিয়ে এগিয়ে যায়, তখন সেটি আর কেবল যানবাহন থাকে না; পরিণত হয় চলমান রাজনৈতিক মঞ্চে। বিশ্বের বহু দেশের মতো বাংলাদেশেও এই প্রচারণা কৌশল এখন নতুন মাত্রা যোগ করেছে নির্বাচনি রাজনীতিতে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রার শুরু

নির্বাচনি প্রচারণায় বাস ব্যবহারের সূচনা ঘটে যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৪৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী টমাস ই. ডিউই প্রথম একটি বাসকে প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে আনেন। ভোটারদের কাছাকাছি পৌঁছাতে ট্রেন বা বিমানের চেয়ে এই মাধ্যমকে বেশি কার্যকর মনে করেছিলেন তিনি। যদিও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে তার পরাজয় ঘটে, তবে প্রচারণার ইতিহাসে বাসভিত্তিক ক্যাম্পেইনের পথ খুলে দেন ডিউই।

পরবর্তী সময়ে এই কৌশলকে আরও জোরালোভাবে কাজে লাগান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ ও ২০২০ সালের নির্বাচনে তার নাম ও স্লোগানে মোড়ানো বিলাসবহুল বাসগুলো গ্রামীণ ও শিল্পাঞ্চলজুড়ে ঘুরে বেড়ায়। বিশেষ করে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতে এসব বাস চলন্ত বিলবোর্ডে পরিণত হয়ে ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বার্তা ছড়িয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের ‘ব্যাটল বাস’

ইউরোপে প্রচারণা বাসের জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যুক্তরাজ্য। সেখানে এসব বাস পরিচিত ‘ব্যাটল বাস’ নামে। সত্তরের দশকের শেষ দিক থেকে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এই ধারা শক্তিশালী হতে থাকে। ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে ডেভিড ওয়েন ও ডেভিড স্টিলের হলুদ রঙের বাস দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে টনি ব্লেয়ার, ডেভিড ক্যামেরন থেকে শুরু করে বরিস জনসন—প্রায় সব শীর্ষ নেতা নির্বাচনের সময় এই কৌশল ব্যবহার করেছেন।

তুরস্কে ‘নির্বাচনি ক্যারাভান’

বিজ্ঞাপন

তুরস্কে প্রচারণা বাসকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। তার নেতৃত্বে একে পার্টি প্রতিটি নির্বাচনে বহু আধুনিক বাস নিয়ে মাঠে নামে, যা ‘নির্বাচনি ক্যারাভান’ নামে পরিচিত। এসব বাসে থাকে শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম, বড় এলইডি স্ক্রিন এবং উন্নত প্রযুক্তি। অনেক সময় বাসের বিশেষ ছাদ থেকে জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এরদোয়ান, যা তার রাজনৈতিক প্রভাবের দৃশ্যমান প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

পাকিস্তানে আন্দোলন ও প্রচারণার মিশেল

পাকিস্তানের রাজনীতিতে বাসের ব্যবহার পায় ভিন্ন মাত্রা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বাস ও কন্টেইনারকে ভ্রাম্যমাণ মঞ্চে রূপ দেন। তার ‘আজাদি মার্চ’ বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। পাশাপাশি নওয়াজ শরীফ ও বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকেও সুসজ্জিত বাসের কনভয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতে ‘রথ’ সংস্কৃতি

ভারতে নির্বাচনি বাসকে অনেক সময় ‘রথ’ নামে আখ্যা দেওয়া হয়। নব্বইয়ের দশকে লালকৃষ্ণ আদভানির সোমনাথ থেকে অযোধ্যা যাত্রা বাসভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে রাজনৈতিক জাগরণ সৃষ্টি করে, যা দেশটির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রার্থীরা বিপুল ব্যয়ে বাস সাজান। কোথাও হাইড্রোলিক লিফট, কোথাও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনফারেন্স রুম, আবার কোথাও স্যাটেলাইট সংযোগ—সব মিলিয়ে বাসগুলো যেন চলমান রাজনৈতিক সদরদপ্তর।

বাংলাদেশে প্রচারণার নতুন মাত্রা

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে আগে নির্বাচনি প্রচারণায় ট্রাক, খোলা জিপ বা পিকআপের ব্যবহার বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে বাসের দিকে ঝুঁকছে রাজনৈতিক দলগুলো। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুলেটপ্রুফ ও সুসজ্জিত বাসে প্রচারণায় নেমেছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উদ্বোধন করেছেন একটি আধুনিক মাল্টিমিডিয়া বাস।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব বাস কেবল প্রচারণার বাহন নয়; বরং শক্তি প্রদর্শন, সংগঠন ও ভোটারদের আবেগ ছোঁয়ার এক কার্যকর মাধ্যম। ফলে বিশ্ব রাজনীতির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও প্রচারণার বাস ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে নির্বাচনি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD