কর্মবিরতিতে অচল বন্দর, উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে শ্রমিক নেতারা

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি বাতিলের দাবিতে টানা কর্মবিরতির ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বন্দর ভবনে উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনার মাধ্যমেই সংকটের সমাধান সম্ভব—এই অবস্থান থেকেই তারা বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছেন।
আরও পড়ুন: পবিত্র রমজানে অফিসের সময়সূচি নির্ধারণ
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে বলেন, এনসিটি লিজ চুক্তি বাতিলই তাদের একমাত্র দাবি। এই দাবি পূরণ হলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত বৈঠক প্রথমে পতেঙ্গার বোট ক্লাবে করার কথা বলা হলেও শ্রমিকরা তাতে সম্মত হননি। তাদের মতে, বন্দর–সংশ্লিষ্ট আলোচনা বন্দর ভবনেই হওয়া উচিত। শেষ পর্যন্ত বিকেল ৩টায় বন্দর ভবনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।
বিজ্ঞাপন
শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, চুক্তির অর্থনৈতিক দিকগুলো নিয়ে উপদেষ্টা পুরোপুরি অবগত নন বলে তাদের ধারণা। আলোচনায় বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে চুক্তিটিকে দেশস্বার্থবিরোধী হিসেবে ব্যাখ্যা করা হবে বলেও জানান তারা।
এর আগে সকালে উপদেষ্টা বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকে আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরে আলাদা করে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা স্থান নিয়ে আপত্তি জানায়।
বৈঠকে উপস্থিত বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী বলেন, বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিকদের কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখা কঠিন হবে।
বিজ্ঞাপন
উপদেষ্টার বন্দরে আগমনের খবরে সকাল থেকেই বন্দর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত শ্রমিক ৪ নম্বর জেটি গেট থেকে কাস্টমস মোড় পর্যন্ত অবস্থান নেন। নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বন্দর ভবনে প্রবেশের সময় শ্রমিকদের বাধার মুখে উপদেষ্টার গাড়িবহর প্রায় ১৫ মিনিট আটকে ছিল বলে জানা যায়। পরে পুলিশ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে গাড়িবহরকে ভেতরে প্রবেশ করায়। এ সময় স্লোগান দিতে দিতে বহু শ্রমিক ভবনের ভেতরেও ঢুকে পড়েন।
বিজ্ঞাপন
আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। তারা জানান, ৩১ জানুয়ারি থেকে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে কর্মসূচি চলছে। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ফলে বন্দরের প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য, চুক্তি বাতিলের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, বন্দর সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত সমাধান না হলে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।








