Logo

সংসদে কমেছে রাজনীতিবিদের সংখ্যা, কোটিপতিই ৭৯ শতাংশ: টিআইবি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৪:৩৮
সংসদে কমেছে রাজনীতিবিদের সংখ্যা, কোটিপতিই ৭৯ শতাংশ: টিআইবি
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ৭৯.৪৬ শতাংশই কোটিপতি বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংসদে মোট ২৩৬ জন কোটিপতি এবং ১৩ জন শতকোটিপতি সদস্য রয়েছেন, যা তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারিত।

বিজ্ঞাপন

টিআইবি জানায়, এবারের সংসদে ২০৯ জন বা প্রায় ৭০ শতাংশ সদস্য প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। সম্ভাব্য সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার দুজনই নতুন সংসদে প্রবেশ করছেন। তবে পেশাগত দিক থেকে রাজনীতিবিদের সংখ্যা আগের তুলনায় সবচেয়ে কম।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও হলফনামা ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডক্টর ইফতেখারুজ্জামান।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অর্ধেকেরও বেশি দেনা বা দায় রয়েছে। সদস্যদের মোট ঋণ ১১,৩৫৬ কোটি টাকা, যা গত চার সংসদের তুলনায় সর্বাধিক। দলগতভাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ।

পেশার দিক থেকে দেখা যায়, ব্যবসায়ী প্রার্থীরা সবচেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ—প্রায় ৬০ শতাংশ। যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় ব্যবসায়ীদের সংখ্যা এ সংসদে ৫ শতাংশ কমেছে, তবে নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।

টিআইবি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের অসঙ্গতি লক্ষণীয়। সরকারি কর্মচারী, প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য নির্বাচনী পরিবেশ সুস্থ ও নিরপেক্ষ রাখার ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয়তা প্রদর্শন করেছেন। শীর্ষ দুই দল বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা প্রচারণা ব্যয়ের সীমা যথাযথভাবে মেনে চলেনি। অনলাইন ও অফলাইন প্রচারণায় ব্যয়ের লঙ্ঘন সর্বাধিক।

বিজ্ঞাপন

সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২.৩৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নবম সংসদের অর্ধেক। এ সংসদ অপেক্ষাকৃত তরুণ; ৮৪.৮৩ শতাংশ সদস্যই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্নাতকোত্তর। শিক্ষক পেশার সদস্যদের সংখ্যা সর্বোচ্চ, তবে পেশায় রাজনীতিবিদের অংশ সবচেয়ে কম।

টিআইবি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রার্থীর ৯৯ শতাংশ আচরণবিধির অন্তত একাধিক বিষয় লঙ্ঘন করেছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ না করার কারণে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং সবার জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সার্বিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য এবং প্রতিযোগিতামূলক হলেও দল ও প্রার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, ক্ষমতার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা এবং অনিয়মে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থ, ধর্ম ও সামাজিক প্রভাবের অপব্যবহারও নির্বাচনের সময় লক্ষণীয়।

টিআইবি সতর্ক করে বলেছে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সক্রিয়তা অপরিহার্য, নাহলে নির্বাচনী সহিংসতা ও অনিয়ম নির্বাচনের পরেও অব্যাহত থাকতে পারে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD