ছয় মাসের মধ্যে বুড়িমারী-ঢাকা রুটে চলবে ট্রেন: ত্রাণমন্ত্রী

উত্তরের জেলা লালমনিরহাটের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যেই বুড়িমারী স্থলবন্দর স্টেশন থেকে সরাসরি ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী বলেন, বুড়িমারী-ঢাকা রুটে ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’ চালুর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী জানান, জেলার সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী ছয় মাসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোন কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা চিহ্নিত করে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২৮ তারিখের মধ্যে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, লালমনিরহাটবাসী যেন অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান উন্নয়নের সুফল পান। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
লালমনিরহাটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, তিস্তা নদী তীরবর্তী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি, সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ট্রেন চালুর পাশাপাশি বন্ধ হয়ে থাকা লালমনিরহাট বিমানবন্দর পুনরায় চালু, নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো বড় প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার উন্নয়ন সম্ভাবনা ও অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধান এবং মো. রোকন উদ্দিন বাবুল।
বিজ্ঞাপন
সভা শেষে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে লালমনিরহাটকে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক দিক থেকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।








