Logo

আহত জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা-পুনর্বাসনে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মার্চ, ২০২৬, ১৫:০৪
আহত জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা-পুনর্বাসনে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলোর আর্থিক সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী জানান, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী খোঁজখবর নেন এবং এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি জানতে চান। তিনি এ বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছেন বলেও জানান মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আহতদের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ক, খ ও গ—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুতরতার মাত্রা অনুযায়ী মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক শ্রেণিভুক্তদের জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকা, খ শ্রেণির জন্য ১৫ হাজার টাকা এবং গ শ্রেণির জন্য নির্ধারিত হারে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

শহীদ পরিবারগুলোর সহায়তায় প্রতিটি পরিবারকে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র প্রদান করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। এ দপ্তরের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী জানান, যেসব শহীদ পরিবারের সন্তান শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়েছে, তাদের শিক্ষাভাতা দিয়ে আবারও পড়াশোনায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকার চাইছে, পিতৃহারা হওয়ার কারণে কোনো শিশুর শিক্ষা যেন বন্ধ না হয়ে যায়—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন।

যেসব যোদ্ধা আন্দোলনে আহত হয়ে হাত-পা হারিয়েছেন বা স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা কমে গেছে, তাদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা বা স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে বিআরডিবি বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে পুনর্বাসন প্রকল্প নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

মুক্তিযুদ্ধের তালিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ, যা পরবর্তী সময়ে বেড়ে প্রায় আড়াই লাখে দাঁড়ায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময়ে ১৬ জন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় তাদের ভাতা বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল দেশের বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তালিকা যাচাই-বাছাই করছে। ইতোমধ্যে ৩০০ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। ভুয়া পরিচয়ে যারা আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন, সেসব অর্থ পুনরুদ্ধারের বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD