Logo

কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মার্চ, ২০২৬, ১৫:২০
কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের উন্নয়ন হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী
ছবি প্রতিনিধি।

কৃষির উন্নয়ন হলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ। তিনি বলেন, আমাদের দেশের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপি কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ মার্চ) হোটল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মাঠ ও খামারের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততাই কৃষির বাস্তব সমস্যাগুলোকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একাডেমি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্টের (বার্ড)-এর জনক ড. আখতার হামিদ খান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষকরা কীভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেন, তা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেখাতেন। সেই সময় থেকেই কৃষির আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন নিয়ে তাঁর মনে গভীর আগ্রহ ও পরিকল্পনা গড়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথি বলেন, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কৃষি কার্ড চালু করা হবে। বর্তমানে দেশে কৃষকদের সঠিক ও সমন্বিত তথ্যভাণ্ডারের অভাব রয়েছে। কৃষি কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষকদের প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, দেশে বিপুল পরিমাণ ঘাস উৎপাদন সত্ত্বেও পশুখাদ্যের দাম কেন বেশি—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মাঠপর্যায় থেকে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান গ্রহণ করা হবে, যাতে কৃষক ও খামারিরা ন্যায্য দামে পশুখাদ্য পেতে পারেন এবং উৎপাদন ব্যয় কমে আসে।

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কৃষি খাতের সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরো বলেন, ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তা দিতে সরকার ১০ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করেছে, যা কৃষকদের আর্থিক চাপ কমিয়ে উৎপাদনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষি কার্ড চালুর বিষয়েও কাজ চলমান রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং সরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

কর্মশালায় জানানো হয়, প্রাণিসম্পদ সেবা কৃষকের দোঁরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারা দেশে মোট ৪৭৫টি এমভিসি (মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক) ক্রয় করা হয়েছে। এসব এমভিসি বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় সকল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে প্রাণী-চিকিৎসা সেবা প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিরাও দ্রুত চিকিৎসা ও পরামর্শ সেবা পাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় লাইভস্টক ফার্মার্স ফিল্ড স্কুল (এলএফএফএস), প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, টিকাদান, রোগ নজরদারি, কৃত্রিম প্রজনন এবং খামারি প্রোফাইলিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংক হিসাব খোলা ও সমবায় সঞ্চয়ের মাধ্যমে খামারিদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৩৫টি ওয়েট মার্কেট নির্মাণ ও হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩টি জেলা শহরে আধুনিকমানের জেলা কসাইখানা (স্লটার হাউজ) নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবেরের সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মোস্তফা কামাল, স্বাগত বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। এসময় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD