ভবন নির্মাণে অনিয়ম : রাজউকসহ সব কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ

দেশের বিভিন্ন শহরে অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে বা বিধিমালা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের প্রবণতা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)সহ দেশের সব উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন ও তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত দপ্তর ও সংস্থাগুলোর মাসিক সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। বৈঠকে বিধিমালা অমান্য করে নির্মাণকাজ পরিচালনার প্রবণতা রোধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় রাজউক ছাড়াও দেশের অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ— চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং যশোর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নির্মাণাধীন ভবনের পরিদর্শনের সংখ্যা বাড়াতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবন নির্মাণেও নজরদারি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সমন্বয় সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোর ইমারত পরিদর্শকের যেসব পদ শূন্য রয়েছে সেগুলো দ্রুত পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিদর্শকদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট এলাকা বা ভবন অনুযায়ী ভাগ করে দিতে বলা হয়েছে, যাতে করে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা যায়।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিধিমালা লঙ্ঘন করে নির্মাণকাজ চালানো কোনো ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পর সেটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে কি না—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত প্রতিবেদন দিতে হবে। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে সরকারি বিধি মেনে চলার বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত নগর গড়ে তুলতে ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২–২০৩৫ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ২০২০ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। পাশাপাশি বিল্ডিং কোড (বিসি) কমিটি নিয়ে বিদ্যমান যে অস্পষ্টতা রয়েছে তা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের নিয়মিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অব্যবহৃত বা অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা সরকারি জমি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অব্যবহৃত জমির তথ্য তালিকাভুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার করতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক ক্ষেত্রেই ভবন নির্মাণের সময় অনুমোদিত নকশা ও বিধিমালা মানা হচ্ছে না। এ কারণে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোকে পরিদর্শন বাড়িয়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মাননান জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সংস্থা ইতোমধ্যে ভবন পরিদর্শন কার্যক্রম বাড়িয়েছে এবং নিয়মবহির্ভূত নির্মাণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।








