Logo

পথে উধাও ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল, তদন্তে পদ্মা অয়েলের টিম

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৫৭
পথে উধাও ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল, তদন্তে পদ্মা অয়েলের টিম
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে আনার পথে বিপুল পরিমাণ জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পদ্মা অয়েল পিএলসি। প্রায় ৭২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের পর ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে প্রতিষ্ঠানটির একটি তদন্ত দল সরেজমিনে ডিপো পরিদর্শন করেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে পদ্মা অয়েলের তিন সদস্যের একটি টিম কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই শুরু করে। তারা ডিপোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, তেলবাহী গাড়ির গতিবিধি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন।

তদন্ত দলে রয়েছেন পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) ও হেড অব ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড কমপ্ল্যায়েন্স মো. শফিউল আজম, ব্যবস্থাপক (পরিচালন) পেয়ার আহাম্মদ এবং কর্মকর্তা (ইঞ্জিনিয়ারিং) কে এম আবদুর রহিম।

সূত্র জানায়, গণমাধ্যমে জেট ফুয়েল চুরির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল থেকেই তদন্ত দল ডিপোতে অবস্থান করে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

তদন্তের অংশ হিসেবে ডিপোর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। একই সঙ্গে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর যাতায়াতের তথ্য মিলিয়ে দেখতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই করা হচ্ছে। ডিপোতে সংরক্ষিত জেট ফুয়েলের পরিমাণও পরিমাপ করে দেখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে ছেড়ে আসা জেট ফুয়েলবাহী ট্যাংকারগুলোর গতিপথ যাচাইয়ের ওপর। কাগজপত্রে দেখা যাচ্ছে এসব গাড়ি কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছেছে, তবে বাস্তবে সেগুলো সত্যিই সেখানে এসেছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে পদ্মা অয়েলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. শফিউল আজম জানান, সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে সকাল থেকেই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। সব দিক বিবেচনা করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

পদ্মা অয়েলের কর্মকর্তারা জানান, জেট ফুয়েল মূলত বিমান চলাচলের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এর তুলনামূলক কম দামের কারণে অসাধু চক্র কখনও কখনও এটি অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল বহন করে ছেড়ে যাওয়া অন্তত চারটি তেলবাহী ট্যাংকার রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত কুর্মিটোলা ডিপোতে পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট গাড়িগুলোর নম্বর হলো—৪১-০৭০০, ৪২-০২৫২, ৪১-০৬৪৯ এবং ৪১-০৬৯৮।

বিজ্ঞাপন

তবে কাগজপত্রে দেখানো হয়েছে যে গাড়িগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছেছে। অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে এসব ট্যাংকারে থাকা তেল অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এ ঘটনায় কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ব্যবস্থাপক মো. সাইদুল হকের নেতৃত্বে একটি পুরনো সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এর আগেও তার বিরুদ্ধে তেল চুরির অভিযোগ উঠেছিল।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, গত বছরের ২০ জানুয়ারি পদ্মা অয়েল কর্তৃপক্ষ তাকে সতর্ক করে একটি চিঠিও দিয়েছিল। তবে এরপরও অভিযোগ অনুযায়ী অনিয়ম থামেনি।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কুর্মিটোলা ডিপো থেকে ধারাবাহিকভাবে তেল চুরির অভিযোগের পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সংস্থাটির সচিব শাহিনা সুলতানার সই করা এক চিঠিতে ওই কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটি। এরই মধ্যে গত ৮ মার্চ তদন্তের অংশ হিসেবে তারা কুর্মিটোলা ডিপো পরিদর্শন করে এবং তেল চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিপোর কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদও করে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান তদন্ত শেষ হলে জেট ফুয়েল নিখোঁজের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD