Logo

আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ, রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ মার্চ, ২০২৬, ১৪:০২
আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ, রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড়
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদের এখনও প্রায় এক সপ্তাহ সময় বাকি থাকলেও শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল থেকেই কমলাপুর ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে কিংবা পরিবারের সদস্যদের আগেভাগে গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে অনেকেই সকাল থেকে স্টেশনে ভিড় করছেন।

বিজ্ঞাপন

স্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কেউ পুরো পরিবার নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের আগে পাঠিয়ে পরে নিজে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

অনেক যাত্রী জানান, ঈদের ঠিক আগের দিনগুলোতে যাত্রীচাপ বাড়ে এবং ভোগান্তির আশঙ্কা থাকে। তাই সেই পরিস্থিতি এড়াতে তারা আগেভাগেই যাত্রা শুরু করেছেন।

বুড়িমারি এক্সপ্রেসের যাত্রী মিরাজ উর রহমান বলেন, তিনি কাউনিয়া স্টেশনে নামবেন। উত্তরবঙ্গের পথে যাতায়াতের জন্য ট্রেনকেই সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ মনে করেন তিনি। তার মতে, দীর্ঘ পথের যাত্রায় ট্রেন নিরাপদ ও আরামদায়ক হওয়ায় ভোগান্তি কম হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ঈদ ঘনিয়ে এলেই বাড়ি ফেরার টানটা যেন আরও বেশি অনুভূত হয়। সেই কারণেই সম্ভাব্য ভিড় এড়াতে আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে জামালপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী হুমায়ূন আহমেদ হিমু জানান, ঈদের সময় সাধারণত স্টেশন ও ট্রেনে যাত্রীদের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তাই তিনি আগেভাগেই মাকে ও ছোট বোনকে নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। ঈদের কেনাকাটাও এরই মধ্যে শেষ করেছেন বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

হিমু বলেন, এখনো স্টেশনে অতটা ভিড় নেই। সরকারি ছুটি শুরু হলে তার বাবা ১৭ মার্চ গ্রামের বাড়িতে যাবেন। এর আগে নিজেই তাদের স্টেশনে পৌঁছে দিয়েছেন। বাড়ি ফেরার এই যাত্রার মধ্য দিয়েই যেন ঈদের আনন্দ শুরু হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ থেকে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। শনিবার ছিল এই বিশেষ ব্যবস্থার দ্বিতীয় দিন। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে স্টেশনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্টেশনের প্রবেশপথে দুই ধাপে টিকিট পরীক্ষা করে যাত্রীদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। টিকিট থাকলে যাত্রীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে বিনা টিকিটে কাউকে স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

দায়িত্বে থাকা ট্রাভেলিং টিকিট এক্সামিনাররা (টিটিই) জানান, কেউ টিকিট ছাড়া স্টেশনে ঢোকার চেষ্টা করলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনো যাত্রী যদি তিনটি টিকিট কিনে থাকেন কিন্তু পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন হয়, সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ায় একটি স্ট্যান্ডিং টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, ঈদযাত্রাকে শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। এজন্য স্টেশনে প্রবেশের সময়ই দুই দফায় টিকিট যাচাই করা হচ্ছে, যাতে বিনা টিকিটে কেউ প্রবেশ করতে না পারে।

বিজ্ঞাপন

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে মোট ৩০টি আন্তঃনগর ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এসব ট্রেনে মোট আসনসংখ্যা ২৮ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের ২৩টি ট্রেনে রয়েছে ১৬ হাজার ১৯৪টি আসন এবং পশ্চিমাঞ্চলের ১৭টি ট্রেনে রয়েছে ১২ হাজার ৭৩২টি আসন। এসব আসনের টিকিট গত ৪ মার্চ অনলাইনে বিক্রি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD