Logo

জামায়াত-এনসিপি বাদ, ঈদে বিএনপি জোটের সব আসনে পাচ্ছেন শাড়ি-থ্রি-পিস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ মার্চ, ২০২৬, ১৭:২১
জামায়াত-এনসিপি বাদ, ঈদে বিএনপি জোটের সব আসনে পাচ্ছেন শাড়ি-থ্রি-পিস
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তবে এ বরাদ্দ কেবল সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব করা ২১৫টি নির্বাচনী এলাকার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর বিরোধী জোট ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-২ এসএম পারভেজের স্বাক্ষর করা একটি বরাদ্দপত্র থেকে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে এসব সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বরাদ্দকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সিনথেটিক শাড়ি, থ্রি-পিস ও হাজী রুমাল।

নথি অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার জন্য ৭০০টি সিনথেটিক শাড়ি, ১০০টি থ্রি-পিস এবং ৫০টি হাজী রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মোট ২১৫টি সংসদীয় এলাকায় এই সহায়তা পাঠানো হচ্ছে। যাচাই করে দেখা গেছে, এই আসনগুলোতে সরকারি দল বিএনপি ও তাদের শরিকদের সংসদ সদস্যরা প্রতিনিধিত্ব করছেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, সংসদের মোট ৩০০ আসনের মধ্যে বাকি আসনগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী-এনসিপি জোট এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব করা এলাকাগুলো এ বরাদ্দের বাইরে রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তিনি লেখেন, আমরা কি তাহলে “সবার আগে বাংলাদেশ” থেকে সরে গিয়ে “সবার আগে বিএনপি” নীতির দিকে এগোচ্ছি? স্লোগান কি শুধু কথার কথা? প্রধানমন্ত্রী কি কেবল অর্ধেক মানুষের জন্য? আমাদের এলাকার মানুষ কি ট্যাক্স বা ভ্যাট দেয় না? জাতি এই বৈষম্য মনে রাখবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বিএনপির এক সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বরাদ্দকৃত ত্রাণসামগ্রী সরাসরি সংসদ সদস্যদের কাছে পৌঁছানোর কথা নয়। সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই এসব ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণের কাজ পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বরাদ্দপত্রে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে এসব ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করবেন। পরে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের পরামর্শ অনুযায়ী নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে এবং পুরো কার্যক্রমের হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে যদি জেলা প্রশাসকদের পক্ষে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহে বিলম্বের আশঙ্কা থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা নিজ দায়িত্বে তেজগাঁওয়ের ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে সামগ্রী সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণের ব্যবস্থা করতে পারবেন।

এছাড়া পুরো প্রক্রিয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে বলেও বরাদ্দপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র মানুষের জন্য সহায়তা বরাদ্দ অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ; তবে তা যেন সব নির্বাচনী এলাকার মানুষ সমানভাবে পায়—সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD