Logo

কড়কড়ে নোটের চড়া দাম, গুনতে হচ্ছে বাড়তি ৩০০–৬০০ টাকা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ মার্চ, ২০২৬, ১৭:১৫
কড়কড়ে নোটের চড়া দাম, গুনতে হচ্ছে বাড়তি ৩০০–৬০০ টাকা
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে প্রতি বছরের মতো এবারও বেড়েছে নতুন টাকার চাহিদা। তবে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় রাজধানীতে খোলা বাজারে নতুন নোট কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত মোটা অঙ্কের টাকা। আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হলেও প্রকাশ্যেই চলছে এই কেনাবেচা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তান স্পোর্টস মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাত এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অস্থায়ী দোকানে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন মূল্যমানের নতুন নোটের বান্ডেল। দুই টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকা পর্যন্ত সব ধরনের নোট পাওয়া গেলেও প্রতিটি বান্ডেলের জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি বান্ডেলে থাকে ১০০টি নোট। কেউ চাইলে বান্ডেল ছাড়াও নির্দিষ্ট পরিমাণ নতুন নোট কিনতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রেও অতিরিক্ত মূল্য দিতে হচ্ছে।

বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ৫, ১০ ও ২০ টাকার নতুন নোটের। পাশাপাশি ২, ৫০ ও ১০০ টাকার নতুন নকশার নোটও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।

বিজ্ঞাপন

দেখা গেছে, ২ টাকার একটি বান্ডেলের জন্য অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, ৫ টাকার জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ১০ টাকার জন্য ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ২০ টাকার জন্য ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং ৫০ টাকার বান্ডেলে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। ১০০ টাকার বান্ডেলের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে প্রায় ৬০০ টাকা।

এ ছাড়া ২০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট কিনতেও ক্রেতাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন নকশার নোটগুলোর ক্ষেত্রে এই বাড়তি মূল্য আরও বেশি।

বিজ্ঞাপন

এক বিক্রেতা জানান, ব্যাংক বন্ধ থাকায় ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। তবে তার দাবি, তারা নিজেরাও বেশি দামে নোট সংগ্রহ করেন, তাই লাভ না করলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে নতুন নোট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে ফুটপাতের বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

একজন ক্রেতা জানান, ছোট ভাই ও ভাতিজাদের সালামি দেওয়ার জন্য তিনি বেশি দাম দিয়েই নতুন নোট কিনেছেন।

আরেকজন বলেন, ব্যাংকে কাঙ্ক্ষিত নোট না পাওয়ায় বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় এই অতিরিক্ত খরচ মেনে নিতে হচ্ছে।

জানা গেছে, এবার সাধারণ মানুষের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে নতুন নোট সরবরাহ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের এই বৈষম্যের সুযোগ নিচ্ছে একশ্রেণির মৌসুমি ব্যবসায়ী।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষকদের মতে, ঈদকে ঘিরে নতুন নোটের প্রতি মানুষের আবেগ থাকায় প্রতি বছরই এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বাজার তৈরি হয়। তবে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি না থাকলে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়, যা ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD