গাবতলীতে কৃত্রিম টিকিট সংকট, দ্বিগুণ ভাড়া গুনছেন যাত্রীরা

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে গণপরিবহনের টিকিট সংকট ও বাড়তি ভাড়া। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা থেকে ফরিদপুর যাচ্ছেন মেহেদী হাসান। তার স্ত্রী মিরপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত। দেরিতে ছুটি পাওয়ায় আগেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি। তিনি জানান, ঢাকা-ফরিদপুরের ভাড়া সাধারণত ৪০০ টাকা। কিন্তু এবার ঈদের কারণে ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।
গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার করিম বলেন, বাসগুলো খালি আসছে। যাত্রীদের সেবা দিতে গিয়ে লোকসানও মেটাচ্ছি।
বিজ্ঞাপন
তিনি স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।
গাবতলী থেকে গোয়ালন্দের ভাড়া ৩৪২ টাকা হলেও ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। মাগুরার ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও ঈদে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। কুষ্টিয়া রুটে চলাচলকারী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাসে পাংশা পর্যন্ত ভাড়া ৬০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে, অথচ অন্যান্য সময়ে তা ৩০০ টাকা।
স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার যুক্তি দিয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাসগুলো যাত্রা শেষে খালি আসে। তাই স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের পুরো রুটের ভাড়া দিতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা থেকে মেহেরপুরের মুজিবনগর যাওয়ার বাসে রাজবাড়ী পর্যন্ত যাত্রীর কাছ থেকেও পুরো ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: নতুন সাজে সেজেছে জাতীয় ঈদগাহ
দূরপাল্লার বাসেও একই ঘটনা ঘটছে। দিনাজপুরগামী ফয়সাল হোসেন জানান, অন্য সময়ে ৮০০ টাকা খরচ করে যাতায়াত করলেও এবার নাবিল ও হানিফ পরিবহনে ১ হাজার ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা যায়, টিকিটের জন্য এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টার পর্যন্ত যাত্রীরা খোঁজ করছেন। টিকিটের গায়ে নির্ধারিত ভাড়া লেখা থাকলেও চলতি পথে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের অভিযোগ, টিকিটের কৃত্রিম সংকট ও বাড়তি ভাড়া তাদের ঈদযাত্রাকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে।








