Logo

সারাদেশে যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে পেট্রোল পাম্প

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মার্চ, ২০২৬, ১১:০১
সারাদেশে যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে পেট্রোল পাম্প
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের ঘাটতি ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২২ মার্চ) রাতে সংগঠনটির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়, সারাদেশের পাম্পগুলোর পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। ফলে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে পাম্পকর্মীরাও শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়ছেন।

সংগঠনটি জানায়, পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেকোনো সময় পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে পাম্পে তেল বিক্রির সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।

সংগঠনটির তথ্যমতে, ঈদের আগের দিন বিভিন্ন পাম্পে কয়েক হাজার লিটার জ্বালানি মজুত থাকলেও অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিকে তারা ‘লুটপাটের মতো’ বলে উল্লেখ করেছে।

তাদের অভিযোগ, অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে একাধিকবার তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েই বারবার জ্বালানি নিতে আসছেন। এতে প্রকৃত গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে গিয়ে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানানো হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে পুরো মজুত শেষ করে দেওয়া হয়।

সংগঠনটির মতে, জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও ট্যাংকার লুট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পাম্প মালিকরা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ করতে বাধ্য হবেন বলে সতর্ক করেছে সংগঠনটি।

তারা আরও জানায়, ঈদের আগের রাতে অনেক পাম্পে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ন্যূনতম জ্বালানিও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করা না হলে পাম্প পরিচালনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD