Logo

৩ লাখ ৫৪ হাজার রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই শেষ, বাধা ওপারের সংঘাত

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ মার্চ, ২০২৬, ১৭:০৯
৩ লাখ ৫৪ হাজার রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই শেষ, বাধা ওপারের সংঘাত
রোহিঙ্গা ক্যাম্প | ফাইল ছবি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তবে এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আইনি উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৮ লাখ ২৯ হাজারের বেশি রোহিঙ্গার তথ্য যাচাইয়ের জন্য মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫১ জনের তথ্য যাচাই সম্পন্ন করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৬৪ জনকে তাদের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইন অঞ্চলে সামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলমান থাকায় অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। ফলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি অতীতের সফল উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৮ সালে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছিল। পরে ১৯৯২ সালে আরও প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষ আয়োজন করা হয়। সেখানে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনকে একমাত্র সমাধান হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট কক্সবাজারে একটি অংশীজন সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ সংস্থা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আইনি দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বাংলাদেশ। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এ মামলার মূল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলার ব্যয় নির্বাহে গাম্বিয়াকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনেও রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে পৃথক দুটি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD