Logo

সংসদে বাতিলের পথে গণভোটসহ ১৬টি অধ্যাদেশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:৪৭
সংসদে বাতিলের পথে গণভোটসহ ১৬টি অধ্যাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থাপন না হওয়ায় গণভোট, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৬টি অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারানোর অবস্থায় পড়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে এসব অধ্যাদেশ ‘ল্যাপস’ বা বাতিল হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

তবে সংসদীয় বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশগুলোকে এখনই আইন হিসেবে পাস বা বিল আকারে উত্থাপন না করে ভবিষ্যতে আরও সময় নিয়ে গভীরভাবে যাচাই–বাছাই করে পুনরায় উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে উপস্থাপন করতে হয়। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে সংসদে অনুমোদন না পেলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকারিতা হারায়। সেই হিসেবে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যেই এই ১৬টি অধ্যাদেশের আইনি কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত বুধবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮টি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫টি অধ্যাদেশ আংশিক সংশোধনের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার মত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪টি অধ্যাদেশ বাতিল বা সংরক্ষণের বিষয়ে পৃথক প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

যে ১৬টি অধ্যাদেশকে আপাতত সংসদে উত্থাপন না করে আরও পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং এর সংশোধনী, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, কাস্টমস ও আয়কর সংশোধন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ-২০২৬, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার চারটি সংশোধনী অধ্যাদেশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন। তাদের মতে, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের ‘কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ’ মামলার রায়ের আলোকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে গত ১২ মার্চ এই ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এরপর তিনটি বৈঠকে কমিটি মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD