Logo

গণভোটের প্রস্তাব সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা, জুলাই সনদই একমাত্র পথ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:৫৪
গণভোটের প্রস্তাব সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা, জুলাই সনদই একমাত্র পথ
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিরোধী দলের উত্থাপিত গণভোট প্রস্তাবের কঠোর সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি এই প্রস্তাবকে সরাসরি সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—জুলাই সনদের বাইরে গিয়ে এর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প পথ নেই।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে একটি উদাহরণ টেনে বলেন, যেমন ভালো পানের মধ্যে পচা পান লুকিয়ে রাখা হয়, তেমনি কিছু প্রস্তাবে বাহ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা দেখালেও ভেতরে থাকে অসঙ্গতি। আইনি ভিত্তি না থাকলেও তা আছে বলে উপস্থাপন করার প্রবণতা ‘কালারেবল লেজিসলেশন’—যা আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। জুলাই সনদ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ দলিল এবং এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি সনদের মধ্যেই সুস্পষ্টভাবে নির্ধারিত।

বিজ্ঞাপন

গণভোটের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, এতে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ—বিশেষ করে ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদের (পিআর পদ্ধতি) কোনো উল্লেখ নেই, অথচ জাতীয় ঐকমত্যের কথা বলে তা উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই ধরনের প্রস্তাবকে তিনি শুরু থেকেই বাতিলযোগ্য বা ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ বলে উল্লেখ করেন।

একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাহ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্যতার আড়ালে বিভ্রান্তিকর উপাদান ঢোকানোর রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।

জুলাই সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো সাধারণ নীতিপত্র নয়; বরং হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা এক ঐতিহাসিক অঙ্গীকার। এই সনদের প্রতিটি অংশে আন্দোলনের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে এর বাস্তবায়ন পদ্ধতিও সনদের ভেতরেই নির্ধারিত এবং সেটিই অনুসরণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি আইনি পার্থক্য ব্যাখ্যা করে বলেন, সব ধরনের সংশোধনই সংস্কারের অন্তর্ভুক্ত হলেও সব সংস্কার সংবিধান সংশোধনের পর্যায়ে পড়ে না।

তিনি বলেন, জনগণের চাহিদা থেকে সংস্কারের ধারণা আসতে পারে, কিন্তু তা কার্যকর করতে হলে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের মাধ্যমেই সংশোধন করতে হবে। এর বাইরে কোনো বিকল্প পদ্ধতি বা শর্টকাট গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।

বিজ্ঞাপন

আইনমন্ত্রী অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গুম, খুন এবং মিথ্যা মামলার যে ইতিহাস রয়েছে, তা থেকেই জুলাই সনদের জন্ম। তিনি উল্লেখ করেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ ও লাখো নেতাকর্মীর দুর্ভোগ এই সনদের পেছনে জড়িত।

বিরোধী দলের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, গণভোটের প্রস্তাবের মাধ্যমে ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা থাকতে পারে, যা ভবিষ্যতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, জনগণের আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই সনদের চেতনা কোনোভাবেই বিপথে যেতে দেওয়া হবে না।

শেষে আইনমন্ত্রী জুলাই সনদকে জনগণের মুক্তির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে এই সনদই হবে প্রধান দিকনির্দেশনা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD