Logo

সংসদে বিরোধিতার মধ্যেই ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৯:৪৮
সংসদে বিরোধিতার মধ্যেই ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাস
ছবি: সংগৃহীত

আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে বহুল আলোচিত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বিরোধী দলের তীব্র আপত্তি ও জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব নাকচের মধ্য দিয়ে কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এর আগে বিলটির ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন (ঢাকা-১২)। তিনি বিলটির বিভিন্ন দিক নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

বিজ্ঞাপন

বিরোধিতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই আইনের মাধ্যমে কোটি কোটি আমানতকারীর সুরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। অতীতে ব্যাংক সংকটে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ব্যাংক রক্ষা করা হয়েছে, যা মূলত সাধারণ করদাতাদের টাকা। তার দাবি, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে লুণ্ঠনকারীরা আইনের ফাঁক গলে পার পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক সংকটে আগে শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতি বহন করতে হতো এবং পরে আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হতো। নতুন আইনি কাঠামোয় সেই অগ্রাধিকার কাঠামো (চেইন অব কমান্ড) দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে বেনামি মালিকানার মাধ্যমে যে অনিয়ম হয়েছে, তা মোকাবিলায় আগের কঠোর বিধানই যথেষ্ট ছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সাইফুল ইসলাম মিলন অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদ্যমান আইনি ক্ষমতা এই বিলের মাধ্যমে সংকুচিত হয়ে যেতে পারে, যা ব্যাংক খাতের প্রতি আস্থা আরও কমিয়ে দেবে।

বিজ্ঞাপন

বিরোধিতার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, সরকার আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে ব্যাংক খাতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও প্রায় এক লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। সাধারণ অবস্থায় কোনো সরকারের পক্ষে এ ধরনের বিপুল অর্থ ধারাবাহিকভাবে বহন করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন এই আইনের মাধ্যমে একটি ‘নিউ উইন্ডো’ বা বিকল্প কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যেখানে শুধু লিকুইডেশনের ওপর নির্ভর না করে বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনের সুযোগ থাকবে। এতে আমানতকারীদের আস্থা বাড়বে এবং ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডাররাও সুরক্ষা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, “লুণ্ঠনকারীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং বাজারভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো সচল রাখা, কর্মসংস্থান বজায় রাখা এবং অর্থনীতিকে গতিশীল রাখাই এই বিলের মূল উদ্দেশ্য।”

বক্তব্য শেষে সাইফুল ইসলাম মিলনের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়। এরপর অর্থমন্ত্রীর আনা বিলটি সংসদে পাস করা হয়।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD