Logo

হামের টিকা পেয়ে স্বস্তি ফিরছে অভিভাবকদের মনে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩:৫১
হামের টিকা পেয়ে স্বস্তি ফিরছে অভিভাবকদের মনে
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কামরাঙ্গীচর থেকে আট মাসের শিশু সুমাইয়া আক্তারকে হামের টিকা দিতে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে এসেছিলেন মা রত্না বেগম। টিকা দেওয়ার পর তিনি জানান, আশপাশে হামের রোগী বেড়ে যাওয়ায় মেয়েকে নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলেন। টিকা পাওয়ায় দুশ্চিন্তা অনেকটা কমেছে, তবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল বলেও মনে করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

লালবাগ থানার দোতালা মসজিদ এলাকা থেকে তিন বছরের ছেলে তামিম হাসানকে টিকা দিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন শামসুন্নাহার। তিনি বলেন, ছেলেকে টিকা দিতে পেরে এখন থেকে একটু স্বস্তিতে দিন কাটাতে পারবেন। দ্রুত এই উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

আজিমপুরের টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর্মী তাহমিনা আক্তার যত্নসহকারে শিশুদের হামের টিকা দিচ্ছেন। তিনি জানান, সকাল থেকে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অভিভাবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিশুদের নিয়ে আসছেন। একের পর এক সবাইকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন চলছে, অভিভাবকদের স্বস্তি

গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। দ্বিতীয় ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে একযোগে এই কার্যক্রম চলছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর আওতায় ৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য সিটি করপোরেশন এলাকাজুড়ে মোট ৫৪০টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৯০টি স্থায়ী এবং ৪৫০টি অস্থায়ী। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচি চলবে আগামী ১১ মে পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর বিভিন্ন টিকাকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, অভিভাবকরা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকে কোলে শিশু নিয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ বাচ্চাকে বোঝাচ্ছেন টিকায় ব্যথা লাগবে না, আবার কেউ টিকা নিলে খেলনা কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

মিরপুর-১২ এলাকার রাড্ডা এমসিপিএইচ টিকা কেন্দ্রে মাহফুজা আক্তার তার সাত মাস ও দুই বছর বয়সী দুই সন্তানকে টিকা দিতে নিয়ে এসেছিলেন। টিকা দেওয়ার পর তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে হাম নিয়ে খুব ভয়ে ছিলেন। টিকা পাওয়ায় ভয় অনেকটা কেটে গেছে।

সেলিনা পারভীন নামের এক নারী বলেন, তার চার বছরের নাতনি সুস্থ থাকলেও হামের খবর শুনে তাকেও টিকা দিয়ে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

অধিকাংশ অভিভাবকই শিশুদের টিকা দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে হামে আক্রান্ত শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এবং অনেকে মারা যাচ্ছে—এমন খবর দেখে এবং মাইকিং শুনে বাচ্চাদের নিয়ে টিকাকেন্দ্রে এসেছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অভিভাবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সন্তানদের টিকা দিতে কেন্দ্রে আসছেন। কয়েকটি কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সুষ্ঠুভাবে টিকাদান নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। টিকার কোনো ঘাটতি নেই।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, রাজধানীতে হামের টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং শতভাগ শিশুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৯৫ শতাংশ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনতে চায় সরকার। আগামী ছয় মাস ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সঠিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম চালাতে পারলে হাম-রুবেলা থেকে স্থায়ী সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে।

ঢাকায় হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রমে অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড়

বিজ্ঞাপন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন এলাকার টিকাকেন্দ্রে শিশুদের হাম-রুবেলা টিকা দিতে অভিভাবকরা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকেই জানিয়েছেন, আশেপাশে হামের রোগী বাড়ায় শিশুদের নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। টিকা পাওয়ায় এখন স্বস্তি ফিরেছে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, অভিভাবকদের সাড়া ভালো এবং সকাল থেকে নিয়মিত টিকাদান চলছে। কর্মসূচির আওতায় ঢাকা দক্ষিণে ৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ৫৪০টি কেন্দ্রে কাজ চলছে। ক্যাম্পেইন চলবে ১১ মে পর্যন্ত।

অভিভাবকরা বলছেন, গণমাধ্যমে হামে শিশু মৃত্যুর খবর দেখে এবং স্থানীয় মাইকিং শুনে বাচ্চাদের টিকা দিতে এসেছেন। সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তারা দ্রুত ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD