Logo

হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৪:৫৩
হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিতের মাধ্যমে হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, সরকার বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘চলুন সহজভাবে বুঝি’। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে হেপাটাইটিস সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভয় ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসাকে সবার জন্য সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, হেপাটাইটিস বিশ্বব্যাপী অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হন। অথচ সময়মতো টিকাদান, পরীক্ষা, নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবায় প্রবেশের বাধা দূর করা জরুরি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্প্রসারণে কাজ চলছে। ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের মাধ্যমে দেশে উন্নত লিভার চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, যাতে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন কমে।

তিনি আরও বলেন, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে রোগীর স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ, দ্রুত রোগ শনাক্ত, ধারাবাহিক চিকিৎসা এবং সরকারি সহায়তা প্রদান আরও সহজ হবে। হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিকের জন্য আধুনিক, মানবিক ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা সরকারের নীতিগত অঙ্গীকার। ‘প্রতিরোধই উত্তম’—এই নীতিকে সামনে রেখে জনস্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিতেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বাজেট, লিভার চিকিৎসার অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে আরও সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা যাবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD