সংস্কার সংস্কার করে, কিন্তু নারীর স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে না

সংস্কারের কথা বলে কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদের সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা অথবা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য মোট ১১টি কমিশন গঠন করেছিল। এসব কমিশনের মধ্যে সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, স্বাস্থ্য এবং নারী উন্নয়ন বিষয়ক কমিশনও রয়েছে।
কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি শুধু সংবিধান ইস্যুতে জোর দিচ্ছে, অথচ নারীর স্বাধীনতা, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, প্রশাসনিক সংস্কার কিংবা আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা কোনো বক্তব্য দিচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো বা সহজে ওষুধ পাওয়ার বিষয়েও এসব মহল নীরব। বরং তারা সীমিত কিছু ইস্যু সামনে এনে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
সাম্প্রতিক একটি পারিবারিক ঘটনাকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি ব্যক্তিগত বিষয়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কর্মকাণ্ড দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায় এবং সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং তরুণদের জন্য দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তবে কিছু মহল এসব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে এবং ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ এর মাধ্যমে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের একটি রূপরেখা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে সংস্কারের প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরে, যা দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছিল।
তারেক রহমান দাবি করেন, যখন বিএনপি এই সংস্কার প্রস্তাব সামনে আনে, তখন অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস পায়নি। অথচ বিএনপি জনগণের স্বার্থে ভয় উপেক্ষা করে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেছিল।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দেশের স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বড় প্রকল্পের আড়ালে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর কাছে বিএনপি তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। দলটি সবসময় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করে এবং কোন বিষয়ে একমত বা দ্বিমত—তা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে বলে জানান তিনি। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
দিনের শুরুতে ঢাকা থেকে সড়কপথে বগুড়ায় পৌঁছে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জেলা জজ আদালতের নতুন ভবন ও ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নামফলক উন্মোচন, গাবতলীতে পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এছাড়া বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধনের পর সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।








