বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিত

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি সহায়তা বা ওয়েলফেয়ার গ্রহণের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক ভিসা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য অনভিবাসী (নন-ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা এই স্থগিতাদেশের আওতার বাইরে থাকবে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে এই নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। ফলে ওই তারিখের পর থেকে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের নতুন অভিবাসী ভিসা আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণের হার উল্লেখযোগ্য। মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত এসব সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণমূলক কর্মসূচির ওপর বাড়তি চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ৪ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ‘ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার রিসিপিয়েন্ট রেটস বাই কান্ট্রি অব অরিজিন’ শিরোনামে একটি তালিকা প্রকাশ করেন। সেখানে ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের অভিবাসীদের মধ্যে সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞাপন
ওই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৯তম। তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর ৫৪.৮ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে থাকে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং নেপাল এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যেও সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করা বহু আবেদনকারীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী আবাসন এবং অন্যান্য অভিবাসন কর্মসূচির আওতায় আবেদনকারীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।
তবে যারা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, ব্যবসা বা অন্যান্য অস্থায়ী উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চান, তাদের জন্য বর্তমান ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।








