Logo

বিশ্বের তীব্র খাদ্য সংকটে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪:৪০
বিশ্বের তীব্র খাদ্য সংকটে শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। জাতিসংঘ সমর্থিত সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তীব্র খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের বড় একটি অংশ মাত্র ১০টি দেশে কেন্দ্রীভূত, আর সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশও।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিসের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বাস করছে মাত্র ১০টি দেশে। এই তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপ—এই তিনটি কারণ বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটকে নজিরবিহীন পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক দশকে তীব্র ক্ষুধার মুখোমুখি মানুষের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের ৪৭টি দেশ ও অঞ্চলে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ উচ্চমাত্রার খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে ছিল। ২০১৬ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে খাদ্য পরিস্থিতিতে কিছুটা উন্নতির আভাস মিললেও সামগ্রিক ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। একইভাবে সিরিয়াতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের মতো দেশে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে, যা বৈশ্বিক অগ্রগতিকে ধীর করে দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনটি আরও সতর্ক করেছে যে, ২০২৬ সালেও খাদ্য সংকটের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং অনেক দেশে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

এর পেছনে আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দামও বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিখাতে। কারণ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের প্রধান আলভারো লারিও বলেন, ফসল রোপণের মৌসুমে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি খাদ্য উৎপাদনে গুরুতর প্রভাব ফেলবে।

তিনি স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন বাড়ানো, মাটির উর্বরতা উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল ফসলের গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য এখনই দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব দেশের খাদ্যব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের জীবনে আরও গভীরভাবে পড়তে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD