Logo

ফ্যামিলি কার্ডে সরকারের ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১৫:৫৬
ফ্যামিলি কার্ডে সরকারের ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

নারীপ্রধান পরিবারকে আর্থিক সহায়তার আওতায় আনতে সরকারের চালু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। নারীপ্রধান পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।

গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কেবল একটি ভাতা কর্মসূচি নয়; বরং অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার অংশ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রকল্পটির অগ্রগতি পর্যালোচনায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সাধারণ সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগের চেয়ে বেশি—এটি একটি মানবিক সহায়তা কাঠামো। তিনি জানান, কর্মসূচির বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ জাতীয় বাজেট থেকেই বরাদ্দ দেওয়া হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৮৬ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনতে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এই ব্যয়ের মধ্যে ৬৬ শতাংশ সরাসরি উপকারভোগীদের নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে। বাকি ৩৪ শতাংশ ব্যয় হবে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজে।

ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় কার্ড পেয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বাস্তবায়ন হলেও আগামী কয়েক বছরে এটি ধাপে ধাপে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। পরবর্তী অর্থবছর ২০২৭–২৮-এ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৮১ লাখে। ২০২৮–২৯ অর্থবছরে ১ কোটি ২১ লাখ পরিবার এবং ২০২৯–৩০ অর্থবছরে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে পাঁচ বছরে এই কর্মসূচির মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধরনের বৃহৎ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয়ের পরিমাণ যেমন বড়, তেমনি এর অর্থায়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলেন, নারীপ্রধান পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক এবং সময়োপযোগী। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ কর্মসূচি টেকসই করতে হলে অর্থের নির্ভরযোগ্য উৎস নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন এবং বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার জানিয়েছে, সারাদেশে জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের শনাক্ত করতে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ে সমন্বিত তদারকি কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা তালিকা যাচাই, বাছাই ও বিতরণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, কর্মসূচিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক সুরক্ষা বাড়বে, দারিদ্র্য কমবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং অর্থের ধারাবাহিক জোগানের ওপর।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD