কোস্ট গার্ডে যুক্ত হবে হেলিকপ্টার সার্ভিস: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

উপকূলীয় অঞ্চল, সমুদ্রসীমা ও সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে বহরে যুক্ত হচ্ছে হেলিকপ্টার সার্ভিস। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আকাশপথে নজরদারি, দ্রুত উদ্ধার অভিযান এবং দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় তৎপরতা আরও কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ড দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ, বন ও নদীপথ সুরক্ষা, জলদস্যু দমন এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রমে বাহিনীটির ভূমিকা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় কোস্ট গার্ডকে আরও আধুনিক ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই বাহিনীর বহরে হেলিকপ্টার সার্ভিস যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে সমুদ্র ও উপকূল এলাকায় নজরদারি বাড়বে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সহজ হবে এবং অতীতের তুলনায় বাহিনীটির কার্যক্রম বহুগুণ বেশি গতিশীল হবে।
মন্ত্রী বলেন, কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধাপে ধাপে বাহিনীটি দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারের সময় বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এ বাহিনী গঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের সামুদ্রিক ও উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোস্ট গার্ড একটি নির্ভরযোগ্য বাহিনী হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু উপকূলীয় নিরাপত্তা নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নানা জরুরি পরিস্থিতিতেও কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিয়মিত টহল ও অভিযানের মাধ্যমে সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, নদীপথে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায়ও বাহিনীটি কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে গত এক বছরে কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন সাফল্য, বিশেষ করে সুন্দরবনকেন্দ্রিক অভিযান, বনদস্যু দমন, উদ্ধার কার্যক্রম এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী বলেন, এসব কার্যক্রমে কোস্ট গার্ডের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা দেশের মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক বলেন, দেশের সামুদ্রিক ও উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাহিনীটি এখন জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, কোস্ট গার্ডের সদস্যরা প্রায়ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান ও দায়িত্ব পালনের সময় এ পর্যন্ত বাহিনীর ১৬ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ বাহিনীর পেশাদার দায়িত্ববোধের বড় প্রমাণ।
মহাপরিচালক আরও বলেন, কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ করতে জনবল ঘাটতি পূরণ অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো গেলে এই বাহিনী দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোস্ট গার্ডে হেলিকপ্টার ইউনিট যুক্ত হলে আকাশপথে নজরদারি, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান, দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ সহায়তা এবং উপকূলীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাহিনীটির সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।








