পুলিশের স্বচ্ছতা-জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়াতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মানবিক পুলিশিং জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সব সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি দেশের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভর করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সততা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের ওপর। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন কিংবা সংকটময় পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীর নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজ্ঞাপন
তিনি সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যরা সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। এজন্য তিনি বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। সাইবার অপরাধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিপফেক প্রযুক্তি, আর্থিক জালিয়াতি, মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন অপরাধ নতুন মাত্রা পাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিশেষ করে এআই, ডেটা অ্যানালিটিকস, সিসিটিভি মনিটরিং এবং ডিজিটাল ফরেনসিকস বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, পুলিশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে হলে বাহিনীর প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একইসঙ্গে জনগণকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা আরও জোরদার করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য, জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই জনবান্ধব আচরণ, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে।








