মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশকেও ছাড় দেওয়া হবে না: আইজিপি

পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য মাদক সেবন বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, মাদক দেশের তরুণ সমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে আয়োজিত আইজি’জ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার সংক্রান্ত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী ও পেশাদার বাহিনী। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যেসব সদস্য বিভিন্ন অভিযানে সাহস, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তারা পুলিশের সুনাম আরও বৃদ্ধি করেছেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, বাহিনীর ভেতরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। বিশেষ করে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে গত ১ মার্চ ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সময়কালে বিশেষ অবদানের জন্য ৩৪১ জন পুলিশ সদস্যকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫’ প্রদান করা হয়। আইজিপি নিজ হাতে তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সাফল্য অর্জনকারী বিভিন্ন ইউনিটকেও পুরস্কৃত করা হয়। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে জেলা পুলিশ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাব ও বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় হয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং তৃতীয় স্থান পায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
‘খ’ গ্রুপে কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রথম, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়।
অন্যদিকে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে একাধিক ইউনিটকে সম্মাননা দেওয়া হয়। ‘ক’ গ্রুপে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
বিজ্ঞাপন
‘খ’ গ্রুপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ প্রথম, কক্সবাজার জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়।
এছাড়া র্যাব, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন বিভাগ, হাইওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও এপিবিএনসহ বিভিন্ন ইউনিটও মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে অবদানের জন্য পুরস্কার লাভ করে।
বিজ্ঞাপন
শিল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে যৌথ মেট্রোপলিটন দল। দ্বিতীয় স্থান লাভ করে এপিবিএন এবং তৃতীয় হয় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ। অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিটের সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।








