Logo

ইসির ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে সায় দিলেন না প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে, ২০২৬, ২০:৪২
ইসির ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে সায় দিলেন না প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম আরও কার্যকর করা এবং নির্বাচনি সরঞ্জামের নিরাপত্তা জোরদারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রায় ৫০০ কোটি টাকার অবকাঠামো প্রকল্প অনুমোদন পায়নি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর সচিবালয়ের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগ ‘নির্বাচনি ডাটাবেজের জন্য উপজেলা/থানা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করে। প্রকল্পটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের প্রস্তাব ছিল।

বিজ্ঞাপন

একনেকের কার্যপত্র অনুযায়ী, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ৪৯২ কোটি ৮৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পরিকল্পনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় একটি আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, তিনটি জেলা নির্বাচন অফিস ভবন এবং ৪৫টি উপজেলা নির্বাচন অফিস ও সার্ভার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। একই সঙ্গে বিভিন্ন মেট্রোপলিটন থানার জন্য ১৬টি ফ্লোর-স্পেস কেনার প্রস্তাবও রাখা হয়।

২০০৮ সালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর গড়ে ওঠা জাতীয় তথ্যভান্ডারকে আরও নিরাপদ ও শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানানো হয়েছে। আগে বেশ কয়েকটি উপজেলায় সার্ভার স্টেশন নির্মিত হলেও ভূমি জটিলতা এবং নতুন উপজেলা গঠনের কারণে অনেক এলাকায় স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি হয়নি। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের আওতায় শুধু ভবন নির্মাণ নয়, ভূমি অধিগ্রহণ, আসবাবপত্র এবং প্রয়োজনীয় কম্পিউটার যন্ত্রপাতি কেনার ব্যবস্থাও রাখা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আধুনিক সার্ভার স্টেশন চালু হলে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি ইভিএম, ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী নিরাপদ অবকাঠামো তৈরি হবে।

পিইসি সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সর্বশেষ রেট শিডিউল অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করায় প্রকল্প ব্যয় আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গাজীপুর সদর, লৌহজং, সালথা, ডাসার, কালুখালী, টুঙ্গীপাড়া, তারাকান্দা, ধনবাড়ী, শাহজাহানপুর, নলডাঙ্গা, চৌহালী, ফুলছড়ি, বিরল, তালতলী, রাঙাবালি, কয়রা, মুজিবনগর, আশুগঞ্জ, বিজয়নগর, কমলনগর, বেগমগঞ্জ, সন্দ্বীপ, পেকুয়া, ঈদগাঁও, দক্ষিণ সুরমা, শায়েস্তাগঞ্জ, জুড়ী, শান্তিগঞ্জ ও দিরাইসহ আরও কয়েকটি উপজেলা।

এ ছাড়া ঢাকা, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা নির্বাচন অফিস এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসও প্রকল্পের আওতায় ছিল।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগম জানান, ৫০ কোটির বেশি ব্যয় হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পটি একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। তিনি বলেন, আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলে মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বাড়বে এবং নাগরিক সেবার মান উন্নত হবে।

তবে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপজেলা পর্যায়ে সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জন্য আলাদা ভবন নির্মাণের পরিবর্তে সমন্বিত বড় ভবন নির্মাণ করতে হবে, যেখানে সব সরকারি অফিস একই ছাদের নিচে থাকবে। এতে সরকারি জমির সাশ্রয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।

ডেটা সেন্টারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে না রেখে একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ স্থানে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা উচিত। তার মতে, কেন্দ্রীয়ভাবে ডেটা সেন্টার পরিচালনা করলে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD