Logo

সব প্রকৌশল বিভাগে একই রেট শিডিউলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে, ২০২৬, ২০:০১
সব প্রকৌশল বিভাগে একই রেট শিডিউলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব প্রকৌশল বিভাগে একই ধরনের রেট শিডিউল চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় বৈষম্য কমানো, সময়মতো কাজ শেষ করা এবং আর্থিক সাশ্রয় নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সভায় মোট ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থা আলাদা আলাদা রেট শিডিউল অনুসরণ করায় প্রকল্প ব্যয়ে অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে। তাই গণপূর্ত অধিদপ্তর, ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন রেট শিডিউল প্রণয়ন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

সভায় সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্প ছিল দীর্ঘদিনের আলোচনায় থাকা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প। কয়েক দফা পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে এ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। প্রথম ধাপে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাদু পানির প্রবাহ বাড়ানো হবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবেগঘন বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ প্রকল্পটি তার বাবা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের একটি উদ্যোগ ছিল।

সভায় উপস্থিত সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের দাবিতে স্থানীয় মানুষ দুই থেকে তিন দশক ধরে আন্দোলন করে আসছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির স্তর ক্রমেই নিচে নেমে যাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন ও মৎস্য খাত উভয়ই লাভবান হবে।

বিজ্ঞাপন

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে— চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন, জেলা শহরগুলোতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের প্রথম ফেজ, হাই-টেক সিটি-২ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন এবং সরকারি শিশু পরিবার ও ছোটমনি নিবাস পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন।

এ ছাড়া সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের জন্য ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ, চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের পঞ্চম সংশোধন এবং ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD