Logo

বৃষ্টি উপেক্ষা করে বৃক্ষরোপণ, সবুজ নগর গড়ার বার্তা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ মে, ২০২৬, ২১:৩৮
বৃষ্টি উপেক্ষা করে বৃক্ষরোপণ, সবুজ নগর গড়ার বার্তা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উপকণ্ঠে গড়ে ওঠা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে বুধবার (১৩ মে) দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পরিচালনা করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

বিজ্ঞাপন

সকাল থেকেই ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত চললেও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করা হয়নি। দুপুরের দিকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এক্সপ্রেসওয়ে সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছে রাজউকের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বৃক্ষরোপণে অংশ নেন।

বৃষ্টিভেজা পরিবেশে কাদা মাড়িয়ে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করেন তারা। শুধু গাছ লাগিয়েই ক্ষান্ত হননি, চারাগুলোতে পানি দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দেন।

বিজ্ঞাপন

বৃক্ষরোপণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেন, পূর্বাচলকে কেবল আবাসননির্ভর কংক্রিট নগরী হিসেবে নয়, বরং একটি প্রাণবন্ত ও সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা ও সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্ষাকাল বৃক্ষরোপণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময় হওয়ায় বৃষ্টি কর্মসূচির অন্তরায় হয়নি। এদিন ফলজ, বনজ, ঔষধি ও বিভিন্ন দুর্লভ প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নগরবাসীর জন্য পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নগর উন্নয়নের পাশাপাশি সবুজায়ন অত্যন্ত জরুরি। তিনি রাজউককে শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।

বিজ্ঞাপন

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির পাশাপাশি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পূর্বাচল প্রকল্পের অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাও পরিদর্শন করেন। তারা মেকানিক্যাল স্ট্যাকইয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, বৃষ্টির সময়ই ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রকৃত কার্যকারিতা বোঝা যায়। কোথাও ত্রুটি ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজউক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজউক চেয়ারম্যান জানান, ২০২৬ সালের বৃক্ষরোপণ মৌসুমে পূর্বাচল প্রকল্প এলাকায় প্রায় ২০ হাজার চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক বিভাজকে শোভাবর্ধক ফুলের গাছ, লেকপাড়ে ছায়াদানকারী বৃক্ষ এবং পার্ক ও খেলার মাঠ ঘিরে ফলজ ও ঔষধি গাছ লাগানো হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সরকারের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে বৃক্ষরোপণে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও গাছ লাগানোর আগ্রহ আরও বাড়াবে।

এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজউকের সদস্য, পূর্বাচল প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

কর্মসূচির শেষদিকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রত্যেককে অন্তত দুটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান। সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD