পল্লবীতে রামিসা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, কুলখানিতে গেলেন বাবা–মা

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ও শোকের ঢেউ থামছে না। এ ঘটনায় শুক্রবারও (২২ মে) এলাকাজুড়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার রামিসাদের বাসার সামনে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ জড়ো হন। ছোট ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে তারা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। অনেকের হাতে ছিল “রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই”, “শিশু নির্যাতনের বিচার চাই” লেখা প্ল্যাকার্ড।
দুপুর ১১টার পর থেকে বাসার সামনে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। পুরো এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করে। স্থানীয়দের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নৃশংস ঘটনার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, নিজের সন্তানদের নিয়ে এখন তারা আতঙ্কে আছেন। এমন নির্মমতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এদিকে সন্তান হারানোর শোকে বাকরুদ্ধ রামিসার বাবা–মা শুক্রবার দুপুরে কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। যাওয়ার আগে বাসার সামনে থাকা মানুষের কান্না ও সান্ত্বনায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞাপন
পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে রামিসাকে দাফন করা হয়। এরপর থেকেই পরিবারটি গভীর শোকে আছে। মা মেয়ের ব্যবহার করা জিনিসপত্র আঁকড়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, আর বাবা মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।








