ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে পশুখাদ্য ও খাটিয়ার মৌসুমি বাজার

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে পশুখাদ্য ও কোরবানিসংশ্লিষ্ট সামগ্রীর অস্থায়ী বাজার। নির্ধারিত পশুর হাটের পাশাপাশি অলিগলি, ফুটপাত, সড়কের পাশ ও খালি জায়গাজুড়ে এখন দেখা মিলছে খড়, ঘাস, ভুসি, খৈল, কাঁঠাল পাতা, দড়ি, খাটিয়া ও পানির গামলার সারি। মৌসুমি এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, বাড্ডা, খিলগাঁও, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাকভর্তি সবুজ ঘাস এনে রাস্তার পাশে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও ভ্যানে, কোথাও ফুটপাতেই সাজিয়ে রাখা হয়েছে পশুর খাবার। গরু-ছাগল কিনে বাসায় নেওয়ার পরপরই অনেকেই এসব খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করছেন।
বাজারে বর্তমানে এক আঁটি সবুজ ঘাস বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৫০ টাকায়। খড়ের ছোট গাদা বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৮০ টাকায়। আবার অনেক স্থানে কেজি হিসেবেও খড় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে প্রতি কেজির দাম রাখা হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকা।
বিজ্ঞাপন
কোরবানির পশু মোটাতাজা ও সুস্থ রাখতে ভুসি, কুঁড়া ও খৈলের চাহিদাও বেড়েছে কয়েকগুণ। বাজারে গমের ভুসি প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের কুঁড়ার দাম কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৫০ টাকা। অন্যদিকে খৈলের দাম উঠেছে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।
বিশেষ করে ছাগল ও ভেড়ার জন্য কাঁঠাল পাতার চাহিদা চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন এলাকায় আঁটি বেঁধে কাঁঠাল পাতা বিক্রি করতে দেখা গেছে বিক্রেতাদের। আকার ও পরিমাণ ভেদে প্রতিটি আঁটির দাম রাখা হচ্ছে ৪০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত।
শুধু পশুখাদ্য নয়, কোরবানির পশু রাখার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বাজারও সরগরম হয়ে উঠেছে। গরু বাঁধার মোটা দড়ি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। পশু রাখার খাটিয়ার দাম আকারভেদে ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া প্লাস্টিকের পানির গামলার দাম পড়ছে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।
বিজ্ঞাপন
মৌসুমি এই ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন অনেক স্বল্পআয়ের মানুষও। একসময় সবজি বিক্রি করতেন নূর আলম। ঈদ উপলক্ষে এবার তিনি পশুখাদ্য বিক্রি করছেন। তিনি জানান, সকালে আনা এক ট্রাক ঘাস দুপুরের মধ্যেই অর্ধেক বিক্রি হয়ে গেছে। কোরবানির কারণে খাটিয়ার চাহিদাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
হাজিপাড়া এলাকায় কাঁঠাল পাতা ও খড় বিক্রি করছেন দিনমজুর ইয়াসিন। তিনি বলেন, কোরবানির সময় নিয়মিত কাজ কমে যাওয়ায় বাড়তি আয়ের আশায় এই ব্যবসায় নেমেছেন। ঈদের দিন মাংস কাটার কাজও করবেন বলে জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদ এলেই পশুখাদ্য ও আনুষঙ্গিক পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘাস ও খড়ের দাম অনেক বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। যদিও বিক্রেতাদের দাবি, পরিবহন ব্যয় ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কিছুটা বাড়তি রাখতে হচ্ছে।
এদিকে কোরবানি উপলক্ষে রাজধানীতে এবার ২৪টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ১২টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় আরও ১২টি অস্থায়ী হাট। এছাড়া গাবতলী ও সারুলিয়ায় রয়েছে দুটি স্থায়ী পশুর হাট। সব মিলিয়ে মোট ২৬টি স্থানে রাজধানীবাসী কোরবানির পশু কেনাবেচার সুযোগ পাচ্ছেন এবার।
ঈদকে ঘিরে এমন মৌসুমি বাজার শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগই তৈরি করছে না, বরং কোরবানির প্রস্তুতিতে নগরজীবনে এনে দিয়েছে আলাদা উৎসবের আমেজও।








