কোরবানির পশুর লাথি–গুঁতায় পঙ্গু হাসপাতালে ৩৩ জন

পবিত্র ঈদুল আজহায় রাজধানীতে কোরবানির পশু নিয়ন্ত্রণ ও জবাই করতে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রোগীর চাপ বেড়েছে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ, যা সাধারণভাবে পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে কোরবানির পশুর লাথি, গুঁতা, দড়ির টানসহ নানা কারণে অন্তত ৩৩ জন আহত রোগী সেখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ঘটনায় আরও ১৬৮ জন আহত হয়েছেন।
এর মধ্যে গুরুতর আঘাতের কারণে ৮৯ জন রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাত-পা ভাঙা, আঙুল কাটা, রগ ছিঁড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের জখম নিয়ে অনেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঈদের নামাজের পর থেকেই কোরবানির প্রস্তুতি শুরু হলে এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
তুরাগ থেকে আহত হয়ে আসা মামুন তালুকদার বলেন, গরু নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং তার বাম হাতের দুই আঙুল কেটে যায়। তার ভাষায়, গরু টানাটানির সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আরেক রোগী মিরপুরের টোলারবাগের মোহাম্মদ তুষার মুফতি জানান, দড়ির টানে গরু পড়ে যাওয়ার সময় তার হাতে আঘাত লাগে এবং একটি আঙুল ভেঙে যায়।
বিজ্ঞাপন
হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জীবনানন্দ হালদার জানান, গত ১৫ ঘণ্টায় মোট ১৬৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে কোরবানিজনিত ও সড়ক দুর্ঘটনার রোগী উভয়ই রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোগীদের মধ্যে আঙুল কাটা, হাত-পা ভাঙা, কোমর ও রগ কাটা ধরনের আঘাত বেশি দেখা যাচ্ছে। কিছু রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ভর্তি রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
চিকিৎসকদের মতে, ঈদের দিন পশু নিয়ন্ত্রণে অসাবধানতা ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার না করার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে।








