রামিসা হত্যা মামলায় আলোচনায় ‘ডলার’, প্রতিবেশীদের চাঞ্চল্যকর তথ্য

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নতুন করে ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে একাধিকবার তার নাম উল্লেখ করার পর বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণে ডলার নামে ওই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সোহেল রানা ও ডলারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তারা একসঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং মাদক গ্রহণ করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এক প্রতিবেশী নারী জানান, ডলারকে প্রায়ই সোহেলের সঙ্গে দেখা যেত। তারা একসঙ্গে সময় কাটাতেন এবং এলাকায় তাদের বন্ধুত্বের বিষয়টি অনেকেরই জানা ছিল। তবে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা নাকি ভাড়াটিয়া—এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানান ওই নারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডলারের বাড়ি পল্লবী এলাকায়। যে বাসা থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তার কয়েকটি বাড়ি পরেই তার বসবাস। এলাকাবাসীর ভাষ্য, তিনি অটোরিকশা চালাতেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। অন্যদিকে সোহেল রানা একই এলাকায় একটি রিকশা গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সূত্রেই তাদের পরিচয় গড়ে ওঠে।
স্থানীয়দের দাবি, ডলারের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না হলেও তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক স্বচ্ছল। তিনি পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেশীদের একজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সোহেলের সঙ্গে ডলারের ওঠাবসা ছিল। সম্প্রতি তাকে এলাকায় রিকশা চালাতে দেখেছেন বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন।
এদিকে ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান জানিয়েছেন, প্রায় ১৯ বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে ডলারের কোনো যোগাযোগ নেই। মাদকাসক্তির কারণে পরিবারের সদস্যরাও তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।
বিজ্ঞাপন
সোমবার আদালতে হাজির করার সময় সাংবাদিকদের কাছে সোহেল রানা দাবি করেন, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ডলার জড়িত ছিল এবং তিনি শুধু মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন। এছাড়া শিশুটিকে এনে দিলে তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, তদন্তে ডলারের নাম উঠে এলেও তার বিরুদ্ধে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণেও তার উপস্থিতির তথ্য মেলেনি। এজন্য অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
এদিকে শিশু রামিসা হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২ জুন) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে হাজির করা হয় এবং শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে এবং আদালতে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরদিন নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।








