Logo

ঢাকা শহরকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না: মির্জা ফখরুল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ জুন, ২০২৬, ১৪:৪২
ঢাকা শহরকে আর বাসযোগ্য মনে হয় না: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার পরিবেশগত অবনতি, বায়ু ও পানি দূষণ এবং নগর ব্যবস্থাপনার নানা সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা শহরকে আর বাসযোগ্য বলে মনে হয় না। এমনকি ব্যক্তিগতভাবে তার মনে হচ্ছে রাজধানী ছেড়ে দেশের অন্য কোনো শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৬ জুন) ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নগর উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, রাজধানীতে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ প্রকৃত অর্থে কতটা উপকৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে মূল্যায়ন প্রয়োজন। উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; মানুষের জীবনযাত্রার মান কতটা উন্নত হচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে ঘর থেকে বের হলেই মানুষ দূষিত বাতাসের মুখোমুখি হচ্ছে। নগরবাসী প্রতিনিয়ত যে বায়ু গ্রহণ করছে, তা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবার মান নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকাল আমার নিজেরই মনে হয়, আমি আর ঢাকা শহরে থাকব না। দেশের অন্য কোনো শহরে গিয়ে বসবাস করব। কারণ, ঢাকা এখন আর আগের মতো বাসযোগ্য বলে মনে হয় না।

তিনি বলেন, যদি রাষ্ট্রীয় ও নাগরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করা না যায়, তাহলে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির যেসব স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবে রূপ নেবে না। নাগরিকদের জন্য বিশুদ্ধ বাতাস, নিরাপদ পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন অর্থবহ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মানুষ যাতে দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সেজন্য পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও সহায়ক হবে।

শুধু নাগরিকদের সচেতন করলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নীতিনির্ধারক, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সিটি কর্পোরেশন একটি স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের উন্নত নগরীগুলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই নগর পরিচালনায় দায়িত্বশীলতা, দূরদর্শিতা এবং দেশপ্রেমের সমন্বয় প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর নদী দূষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছাত্রজীবনে প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকাভ্রমণে যেতেন। কিন্তু বর্তমানে নদীটির অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছে যে তার কাছে যেতেও অনেকে অনাগ্রহী। নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়েছে এবং দুর্গন্ধে পরিবেশ অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

তার মতে, ঢাকার অনেক পরিবেশগত সমস্যার সঙ্গে বুড়িগঙ্গার দূষণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। শুধু বুড়িগঙ্গাই নয়, শীতলক্ষ্যা নদীর অবস্থাও ক্রমশ একই পথে এগোচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ফলে রাজধানীর নাগরিকদের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বিনোদনের সুযোগও কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করার জন্য কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। ভবিষ্যতে বুড়িগঙ্গা, তুরাগসহ আশপাশের নদীগুলোর পরিবেশ পুনরুদ্ধারে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর পানি সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক মন্ত্রিসভা বৈঠকেও ঢাকার পানির মান এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তার মতে, শহরের একটি বড় অংশে সরবরাহ করা পানি সরাসরি পান করার উপযোগী নয়।

একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়াকে ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে রাজধানী আরও বড় পরিবেশগত ও মানবিক সংকটে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি। পরিকল্পনা গ্রহণের সময় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটবে— এমন সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার পরিবেশ, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নদী দূষণ সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনা এবং কঠোর বাস্তবায়নই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ। মির্জা ফখরুলের বক্তব্যও সেই প্রয়োজনীয়তার দিকেই নতুন করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD