Logo

আজ পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ জুন, ২০২৬, ১৩:৩৫
আজ পালিত হচ্ছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আজ (১০ জুন) যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। প্রতিবছর ২৯ মে বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদযাপিত হলেও এবার ঈদুল আজহার সরকারি ছুটির কারণে বাংলাদেশে নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে আজ দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সেনাকুঞ্জে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা জানানো হবে। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সংঘাত, সহিংসতা, যুদ্ধ ও মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা অসাধারণ সাহস, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ বিশ্বশান্তির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শান্তিরক্ষী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তিরক্ষী পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বহু বছর ধরে প্রশংসিত হয়ে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছিল।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ প্রথম কিংবা দ্বিতীয় অবস্থানে থেকেছে। ফলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ইতিহাসে বাংলাদেশের নাম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক সীমান্তে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ শুরু হয়। সেই যাত্রার ধারাবাহিকতায় গত প্রায় চার দশকে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ১৯৯৩ সাল থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশ ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মোট ২১ হাজার ৮২৮ সদস্য বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে নারী সদস্য রয়েছেন এক হাজার ৯২৮ জন। তারা ২৫টি দেশের ২৭টি পৃথক মিশনে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা এ পর্যন্ত বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে পরিচালিত ৬৩টি জাতিসংঘ মিশনে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এসব মিশনে মোট দুই লাখ ছয় হাজার ৪৭৬ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী শান্তিরক্ষীর সংখ্যা তিন হাজার ৬৪৫ জন। সবচেয়ে বেশি সদস্য এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে, যার সংখ্যা এক লাখ ৬২ হাজার ৩৫ জন।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত ৯টি শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের চার হাজার ৪১২ জন শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। তারা আফ্রিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশের অনেক শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১৩৮ জন, নৌবাহিনীর চারজন, বিমানবাহিনীর নয়জন এবং পুলিশের ২৪ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন ২৮৭ জন শান্তিরক্ষী।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা এসব বীর শান্তিরক্ষীর অবদান ও আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের অব্যাহত ভূমিকার স্বীকৃতি জানাতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD